ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের মরদেহ দেশে ফিরছে। বৃহত্তর প্যারিসের ৭৮ ডিপার্টমেন্টের জো-অঁ-জোসা এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে গত ৪ মে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ফরাসি পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ গ্রহণ করে। পরে মরদেহবাহী গাড়ি শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। আগামী রবিববার ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হলেও, ১১ মে প্রকাশিত ফরাসি পুলিশের প্রতিবেদনে এটিকে “স্বাভাবিক মৃত্যু” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় কক্ষে কোনো সহিংসতার চিহ্ন কিংবা জোরপূর্বক প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করেছে।
২৩ বছর বয়সী মহাদেব ঘোষ ফ্রান্সের খ্যাতনামা বিজনেস স্কুল এইচইসি প্যারিসে এমবিএ অধ্যয়নরত ছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ইতালিতে একটি কোর্স শেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে ফ্রান্সে যান।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহাদেব ঘোষ ঝিনাইদহ জেলার কাটালাগাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাবেক কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ ও সাগরদীপা ঘোষ রায় দম্পতির সন্তান।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। জো-অঁ-জোসা সিটি হল ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করেছে এবং প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত সময়ের মধ্যে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ইস্যু করে সহযোগিতা করেছে।
এ ঘটনায় ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ), বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যান্ড অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ইন ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
একযোগে এনসিপির ২২ নেতার পদত্যাগ