ভোজশালা মসজিদের জায়গা মন্দিরের : হাইকোর্ট

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২০ এএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদের স্থানকে সরস্বতী মন্দির বলে বিতর্কিত এক রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। গতকাল শুক্রবার হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, ভোজশালা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনা ভারতের পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) হাতেই থাকবে। তবে পূজার্চনার অধিকারী হবে শুধু হিন্দুরাই। রাজ্য সরকারকে ওই স্থাপত্যের চারধারের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, জেলার মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্য কোনো জমি দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারে। সরকারের উচিত গুরুত্বের সঙ্গে সেই আবেদন বিবেচনা করা।

মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে কামাল মাওলার দরগা এবং মসজিদ প্রায় হাজার বছরের পুরনো। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের দাবিতে হিন্দুত্ববাদীদের আন্দোলনের সময় থেকে ভোজশালা নিয়েও তারা বিতর্ক তোলে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, সৌধটি আসলে মালব্য অঞ্চলের পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের (১০১০-১০৫৫) আমলে তৈরি হিন্দুদের জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর মন্দির। সেখানে একটি সংস্কৃত শিক্ষালয়ও ছিল।

সেই সময়ে প্রশাসন সেখানে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা করার ও প্রতি শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায়ের নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। সপ্তাহের অন্যান্য দিন যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। তবে সেই দিনগুলোতে কাউকে পূজা দিতে বা নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না এই সৌধে। হাইকোর্টের নির্দেশেই ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) এই বিতর্কিত অংশে ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ চালিয়েছিল।

গতকাল শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্যও প্রমাণ করে যে, বিতর্কিত এলাকায় রাজা ভোজের সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। তাই অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।

বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ভোজশালার ওই অংশের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার তত্ত্বাবধান করবে এএসআই। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। লন্ডনের জাদুঘর থেকে সরস্বতীর প্রতিমা নিয়ে এসে ভোজশালায় স্থাপন করতে চান হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তার জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করে দেখতে পারে।

ভোজশালায় মঙ্গলবার করে হিন্দুদের পূজা দেওয়ার এবং শুক্রবার করে মুসলিমদের নামাজ পড়ার নিয়মে ইতি টানতে চেয়ে ২০২২ সালে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। সেখানে একচ্ছত্রভাবে হিন্দু উপাসনার রীতি চালু করতে চেয়েছিল তারা। ২০২৪ সালে এএসআইকে ভোজশালার ওই অংশের ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ করতে বলে হাইকোর্ট। ৯৮ দিন ধরে সমীক্ষা চালানোর পর আদালতে এএসআই রিপোর্ট জমা দেয়। দুই হাজার পাতার সেই রিপোর্টে এএসআই জানিয়েছিল, বর্তমানে যেখানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে আগে পারমার বংশের আমলে তৈরি বিশাল একটি কাঠামো ছিল। তবে এই সমীক্ষার রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করে মুসলিম পক্ষ। আদালতে তা নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়েছে। সেই মামলাতেই এবার রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত