কে হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ? এ নিয়ে গত কদিন ধরেই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। গতকাল ১৫ মে নাম ঘোষণার কথা জানিয়েছিল বাফুফে। কিন্তু হয়নি। ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানকে নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও তার বিশাল পারিশ্রমিক বাফুফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কোচ নিয়োগে বিলম্ব এবং বাফুফের প্রস্তাবনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বাফুফে তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নামই জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। অন্য দুজন বার্নড স্টর্ক ও টমাস ডুলি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বাফুফে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং তাদের যে টিম রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু কোচদের একটি শর্ট লিস্ট হয়েছে। আমি আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন নতুন কোচের নাম।’
কোলম্যান তার সহকারী কোচ কিট সিমন্সকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী। দুজনের জন্য মাসিক সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা)। এর মধ্যে কোলম্যানের বেতনই ২৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকা)।
কোলম্যানের মতো ব্যয়বহুল কোচের অন্তর্ভুক্তি ও বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বাস্তবতাকেই সামনে আনেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাতারাতি কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যে কোচ আসুক না কেন, তাকে একটি নির্ধারিত সময় দেওয়া উচিত। আমরা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, একটু অপেক্ষা করেন, আপনারা কাক্সিক্ষত ফল জানতে পারবেন।’
এ সময় ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ ও বাজেটের অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাজেট আমাদের চিন্তাভাবনার তুলনায় অপ্রতুল। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি এবং আশা করি আগামী অর্থবছরে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ নতুনভাবে বাস্তবায়িত হবে।’
ব্যাডমিন্টন লিগ শুরু : শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নষ্ট থাকায় গরমে অস্থির হয়ে পড়েন ক্রীড়াবিদরা। তাই এবার সেই যন্ত্র মেরামত কিংবা নতুন কেনার ওপর জোর দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শুধু তাই নয়, ব্যাডমিন্টনে দুই বছরের জন্য বিদেশি কোচও দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। শুক্রবার প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টন লিগের উদ্বোধন করতে এসে এমন আশ^াস দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও সহসভাপতি ইমরোজ আহমেদ এবং ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি হাবিব উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে বড় কর্মপরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার। তাই এর বৃহৎ বাজেট নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রীর কথা, ‘আমাদের কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের বাজেটটিকে নতুনভাবে নিয়ে ভাবতে হবে। সেই ভাবনার জায়গাটা ইতিমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এবং আমাদের স্পোর্টসের যারা রয়েছেন সবাই আমরা কাজ করছি। তো আশা করি যে আগামী যে অর্থবছর, সেই অর্থবছরে বাংলাদেশের নতুন এই ক্রীড়াঙ্গনের চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ নতুনভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
এবারের প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টন লিগে বিদেশি শাটলাররাও খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে অ্যালোরা শাটলার অ্যাকাডেমি রঘু নামে একজন ভারতীয় শাটলারকে এনেছে। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ। অস্ট্রেলিয়া এবং দুবাইয়ে টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকেও কয়েকজন শাটলার আসার কথা রয়েছে। খেলা হচ্ছে দল হিসেবে। প্রত্যেকটি দল পুরুষ ও মহিলা একক, দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈতে মোট পাঁচটি ইভেন্টে খেলছে। যে কোনো তিন ইভেন্টে জিতলেই দল পূর্ণ পয়েন্ট পাচ্ছে। প্রতি ক্লাবের হয়ে দুজন (পুরুষ ও নারী) বিদেশি শাটলারকে অনুমতি দিয়েছে ফেডারেশন। তবে বিদেশি শাটলাররা প্রতি ম্যাচে দুটি ইভেন্টের বেশি খেলতে পারছেন না। লিগের চ্যাম্পিয়ন দল তিন লাখ ও রানার্সআপ দল দুই লাখ টাকা প্রাইজমানি পাবে।
