স্বর্ণের দোকানে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক। কিন্তু দোকান কর্মচারী থেকে মাত্র পাঁচ বছরে তিনি হয়ে গেলেন জুয়েলারি ব্যবসায়ী। মূলত চোরাই স্বর্ণ দিয়ে জুয়েলারির মালিক বনে যান স্বপন বসাক। তাও কয়েক ভরি নয়, সাড়ে সাত হাজার ভরি স্বর্ণ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি। চোরাই স্বর্ণ দিয়ে স্বপন কিনেছেন গাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট; পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সিআইডির হাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি রিমান্ডে আছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছেন স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্যও।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ‘অলংকার নিকেতন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছেলে দাইয়ান আজাদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, স্বপন বসাক দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্য আসামিদের যোগসাজশে ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত মঙ্গলবার দুপুরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের রামচন্দ্রপুরে।
সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তার স্বপন বসাক প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার জুয়েলারির মালিক হিসেবে ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং রয়েছে, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণের তথ্য পাওয়া যায়।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, স্বপন বসাক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান থাকাকালে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীর সহযোগিতায় পাঁচ বছরে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে ডিসপ্লেতে থাকা ভারী সোনার বালার পরিবর্তে হালকা সোনার বালা রেখে দিতেন। তিন ভরি সোনার চেইন সরিয়ে এক ভরি সোনার চেইন রাখাসহ বিভিন্ন কায়দায় এ সোনা চুরি করে স্বপনের চক্রটি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজাহারনামীয় এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। সার্বিক তদন্তে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করা হয়।
