৪ কাজ করলেই জান্নাতে যেতে পারবে নারীরা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে জান্নাতে প্রবেশ করাই মানুষের সবচেয়ে বড় সফলতা। একজন মুমিন নারীও এ মহান সফলতার প্রত্যাশা করেন। ইসলাম নারীদের মর্যাদা দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে এবং জান্নাত লাভের সহজ ও সুন্দর পথও দেখিয়ে দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে জান্নাতি নারীর চারটি বিশেষ গুণ বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, রমাজানের রোজা পালন, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তবে সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২৫৪) এই হাদিসে জান্নাতি নারীর চারটি গুণ অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় : নামাজ মুমিন জীবনের প্রাণ। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে দৃঢ় করে। একজন নারী যখন সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তখন তার অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়, চরিত্র পবিত্র হয় এবং জীবনে প্রশান্তি আসে। বর্তমান যুগে নারীরা নানা ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ চাকরি, কেউ পড়াশোনা, কেউ সংসারের কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে যান যে, নামাজে অবহেলা দেখা দেয়। অথচ একজন জান্নাতি নারীর প্রথম পরিচয়ই হলো, তিনি নামাজের ব্যাপারে সচেতন।

রমজানের রোজা পালন : রোজা মানুষকে তাকওয়া শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে বান্দা ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা লাভ করে। একজন নারী যখন আন্তরিকতার সঙ্গে রোজা রাখেন, তখন তার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়। রমজান নারীদের জন্য বিশেষ রহমতের মাস। অনেক নারী এ মাসে কোরআন তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ আদায়, দান-সদকা ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের আমলকে সমৃদ্ধ করেন।

লজ্জাস্থানের হেফাজত : হাদিসে উল্লিখিত তৃতীয় গুণ হলো নিজের সতীত্ব ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করা। এটি নারীর চরিত্রের সবচেয়ে মূল্যবান অলংকার। ইসলাম নারীকে লজ্জাশীলতা ও পবিত্রতার শিক্ষা দিয়েছে। আজকের পৃথিবীতে অশ্লীলতা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা অপসংস্কৃতি মানুষের অন্তরকে কলুষিত করছে। এমন সময়ে নিজেকে হেফাজত করা বড় ইবাদত। পর্দা, শালীনতা, দৃষ্টি সংযম এবং হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকাই এ গুণের অন্তর্ভুক্ত।

স্বামীর আনুগত্য : হাদিসে উল্লিখিত চতুর্থ গুণ হলো স্বামীর আনুগত্য করা। ইসলামে পারিবারিক শান্তির জন্য স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামীর আনুগত্য মানে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং বৈধ বিষয়ে সম্মান ও সহযোগিতা করা। একজন আদর্শ স্ত্রী স্বামীর সুখ-দুখে পাশে থাকেন, সংসারকে শান্তিময় রাখেন এবং পরিবারকে ইসলামের পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করেন। এ আনুগত্য পরিবারে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।

বর্তমান যুগে অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে অহংকার, অবাধ্যতা ও পারস্পরিক অসম্মানের কারণে। অথচ ইসলাম পরিবারকে জান্নাতের বাগান বানাতে চায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি যদি কাউকে অন্য কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম।’ (সুনানে তিরমিজি)

এ হাদিস দ্বারা স্বামীর মর্যাদা ও অধিকার বোঝানো হয়েছে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, স্বামীর ওপরও স্ত্রীর হক রয়েছে। ইসলাম পুরুষকে দায়িত্বশীল, দয়ালু ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি)

লেখক : মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব, জামিয়া দারুল হিকমাহ, কেওয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত