শেয়ারবাজারে ডিএসইর নতুন উদ্যোগ

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০২:০০ এএম

দেশের শেয়ারবাজারকে আরও টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর করে তুলতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর নিকুঞ্জ ডিএসই টাওয়ারে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে সক্ষমতা উন্নয়ন, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও এ খাত এখনো অর্থায়ন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রক কমপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং ইকুইটি-ভিত্তিক মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। ডিএসইর সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সম্ভাবনাময় এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি খাতসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে একসঙ্গে কাজ করবে। এ ছাড়া পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি), সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, বাণিজ্য সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়েও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

চুক্তির আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি, সচেতনতামূলক কর্মশালা, ইনকিউবেশন সহায়তা এবং পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আরও বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়। একই সঙ্গে গ্রিন বন্ড, সাসটেইনেবিলিটি-লিংকড বন্ড, সুকুক এবং ব্লেন্ডেড-ফাইন্যান্স মডেলসহ বিভিন্ন টেকসই অর্থায়ন পণ্য উন্নয়নেও পারস্পরিক সহযোগিতা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত