আলভারেজকে গোল দিয়ে আতলেতিকোর ‘মন জেতার’ পরামর্শ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

বার্সেলোনায় যাওয়ার গুঞ্জন আর দলবদলের দীর্ঘ নাটকের জেরে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সঙ্গে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে এবার এগিয়ে এসেছেন ক্লাবটির পর্তুগিজ কিংবদন্তি পাওলো ফুতরে।

দলবদলের জানালা বন্ধ হওয়ার পর আলভারেজের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েও তাকে কঠোর এক বার্তা দিয়েছেন ক্লাবের এই সাবেক তারকা। সমর্থকদের মন জয় করতে কথার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায় নাম লেখানোর তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন আলভারেজ। কিন্তু আতলেতিকো স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সার কাছে তাদের তারকাকে বিক্রি করা হবে না। এমনকি আর্সেনালের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের প্রস্তাব আসার পরও প্রিমিয়ার লিগে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার।

ফলস্বরূপ, ক্লাব ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তৈরি হয় এক অদ্ভুত টানাপোড়েন, যার প্রভাব পড়ে গ্যালারিতেও। লা লিগায় ভিয়ালিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় ঘরের দর্শকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয় তাকে।

এমন এক স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে আলভারেজের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অতীতের স্মৃতিচারণ করেছেন আতলেতিকোর ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার পাওলো ফুতরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ফুতরে আলভারেজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হুলিয়ান, আমিও আতলেতিকোর সমর্থক হয়ে জন্মাইনি। আমি পর্তুগিজ, ২১ বছর বয়সে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে এখানে এসেছিলাম। সেদিন এক তরুণ হিসেবে আমি এই অনন্য লোগোটির প্রেমে পড়েছিলাম।’ 

ফুতরের বর্ণাঢ্য অতীত ও আলভারেজের প্রতি আস্থা

১৯৮৭ সালে পোর্তোর হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের পরই আতলেতিকোতে নাম লিখিয়েছিলেন ফুতরে। একই বছর ব্যালন ডি’অর ভোটিংয়ে রুড গুলিতের ঠিক পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। লাল-সাদা জার্সি গায়ে চড়িয়ে ক্লাবটির হয়ে তিনি ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে করেছেন ৫২টি গোল। এছাড়া ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে জিতেছেন দুটি কোপা দেল রে শিরোপা। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রে ফাইনালে তার করা সেই গোলটি আতলেতিকো ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সেই অভিজ্ঞতা টেনে আলভারেজও একদিন এই ক্লাবের সংস্কৃতির সঙ্গে একইভাবে মিশে যাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন ফুতরে। ভিডিও বার্তার পরবর্তী অংশে আলভারেজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত,হুলিয়ান, তুমিও এই অনন্য সমর্থকগোষ্ঠী ও এই দুর্দান্ত ক্লাবের প্রেমে পড়ে যাবে।’ 

কথায় নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই মিলবে মুক্তি

সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে আলভারেজকে সবচেয়ে স্পষ্ট ও কড়া বার্তাটি দেন ভিডিওর শেষ পর্যায়ে। ক্লাব কিংবদন্তি সাফ জানিয়ে দেন, ভক্তদের মন জয় করতে হলে কথার মারপ্যাঁচ নয়, প্রয়োজন জালের দেখা পাওয়া।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিও বার্তার শেষ অংশে পাওলো ফুতরে বলেন, ‘ক্ষমা কোনো কথার মাধ্যমে হয় না, ক্ষমা হয় গোলের মাধ্যমে। এই লোগোর জন্য তুমি শেষ বিন্দু পর্যন্ত ঘাম ঝরাবে এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এগিয়ে চলো আতলেতিকো, হুলিয়ান! চলো, চ্যাম্পিয়ন!’ 

এদিকে দলবদলের গুঞ্জন ও অসুস্থতা কাটিয়ে গত সোমবার অনুশীলনে ফিরেছেন আলভারেজ। সামনেই বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ। ডিয়েগো সিমেওনের কোচিং স্টাফরা তাকে স্কোয়াডে ফেরানোর প্রস্তুতি নিলেও শুরুর একাদশে তাকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। তবে গ্যালারির ক্ষোভ মিটিয়ে আলভারেজ মাঠে তার স্বভাবসুলভ গোল করার মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত