জামায়াত জোট ছাড়তে যে চার দলকে চাপ দিচ্ছে হেফাজত!

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

জামায়াতের জোট ছাড়তে নির্বাচনের পরও ধর্মভিত্তিক চারটি দলকে চাপ দিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। এ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা হেফাজতের পদেও রয়েছেন। তাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, জামায়াত জোট বা হেফাজত– যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। 

তবে তারা জোট ও হেফাজত দুই জায়াগায় থাকতে চান। উদাহরণ দিচ্ছেন, বিএনপির সঙ্গে থাকা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর নেতারা দুই জায়গায় থাকতে পারলে, তারা কেন পারবেন না?

দলগুলোর এবং হেফাজত নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর মতবাদকে ভ্রান্ত আখ্যা দেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব সাজিদুর রহমান। 

জামায়াতকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভোট না দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। হেফাজত আমির ফতোয়া দিয়েছিলেন, জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়া হারাম।

যদিও হেফাজত ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই হেফাজতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

খেলাফতের অপরাংশের আমির আবদুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল– দুজনেই হেফাজতের নায়েবে আমির। নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইজহার হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত হাবিবুল্লাহ মিয়াজী হেফাজতের নায়েবে আমির।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের দুই অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোট নির্বাচনী সমঝোতা না করলেও, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে। এই তিনটি দলের নেতাদের বিএনপি ছাড়তে চাপ দিচ্ছে না হেফাজত।

জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত-সংশ্লিষ্ট চারটি দলের একাধিক নেতা বলেছেন, হেফাজত ও জোট দুই জায়গাতেই থাকবেন তারা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কসহ নানা কারণে হেফাজত সংগঠন হিসেবে বিএনপির দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে। হেফাজত ছাড়বেন না, তবে এই অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন।

এই চারটি দল ছাড়াও জামায়াত, এনসিপিসহ ১১টি দল মিলে নির্বাচনী ঐক্য গঠন করেছিল। নির্বাচনের পর দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্মিলিতভাবে বিরোধী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে সংসদে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বাইরে জোটবদ্ধ থাকবে। এই দাবিতে গত শনিবারও রাজশাহীতে সমাবেশ করেছে ১১ দল। আগামী জুলাই পর্যন্ত জোটের কর্মসূচি চলবে।

জামায়াতের জোটে ছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনও। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াতের কড়া সমালোচক ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দল দুটি প্রকাশ্য সম্পর্কে আসে। সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন জোট ভাঙে জামায়াত ও চরমোনাই পীরের।

এরপর থেকে আবারও জামায়াতের সমালোচনায় মুখর হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এই দলটি হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও, একই ভাষায় সমালোচনা করছে। নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ ‘মুরব্বিরা’ জামায়াতের বিরুদ্ধে যেমন প্রচার করেছেন, ভোটের পর কওমিভিত্তিক চার দলকে চাপ দিচ্ছেন জামায়াত ছাড়তে।

চারটি দলের সঙ্গে আলোচনা করতে গত ২৮ এপ্রিল কমিটি গঠন করে দেন হেফাজত আমির। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। কমিটি বৈঠকও করে দলগুলোর সঙ্গে। এতে গুঞ্জন ছড়ায় জামায়াত জোট না ছাড়া দলগুলোর নেতাদের হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এসব আলোচনার মধ্যেই রোববার মামুনুল হক চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা করেছেন হেফাজত আমিরের সঙ্গে। বৈঠকের পর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী দাবি করেন, হেফাজতের মধ্যে বিভেদ নেই।

মামুনুল হক বলেন, হেফাজতের আমির যে বিশ্বাস ও আকিদার কথা বলেন তা বাংলাদেশ খেলাফতসহ সংগঠনের যুক্ত সব দল তা ধারণ করে।

বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মত ও পথের দল নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও আদর্শিক পার্থক্য আগের মতোই রয়েছে। ১১ দল আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ঐক্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত