সব জল্পনার অবসান ঘটালেন কার্লো আনচেলত্তি। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারকে রেখেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টায় রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্খিত নামটা তাঁরই ছিল। আনচেলত্তির কন্ঠে—নেইমার জুনিয়র নামটি উচচারিত হতেই উল্লাস ফেটে পড়ে হল রুম।
২৬ জনের স্কোয়াড
গোলরক্ষক
আলিসন বেকার (লিভারপুল), এদেরসন (ফেন্যারবাচে), ওয়েভারটন (পালমেইরাস)
ডিফেন্ডার
মার্কিনহোস (পিএসজি), গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (আর্সেনাল), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), আলেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), গ্লিসন ব্রেমার (জুভেন্তুস), ডগলাস সান্তোস (জেনিত), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লেও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), ওয়েসলি (এএস রোমা)
মিডফিল্ডার
ক্যাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল ইউনাইটেড), ফাবিনহো (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্ট হ্যাম), দানিলো (বোটফোগো)
ফরোয়ার্ড
নেইমার জুনিয়র (সান্তোস), ভিনিসিয়াস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনহা (বার্সেলোনা), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), এনদ্রিক (রিয়াল মাদ্রিদ / অলিম্পিক লিওঁ), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), ম্যাথিউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লুইজ হেনরিকে (জেনিত), রায়ান (বোর্নমাউথ)
স্কোয়াডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
দুই 'দানিলো'র উপস্থিতি: এবারের স্কোয়াডে একই নামের দুইজন ফুটবলার থাকছেন। একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো) এবং অন্যজন বোটফোগোর ২৫ বছর বয়সী উদীয়মান মিডফিল্ডার দানিলো।
আক্রমণভাগের শক্তিমত্তা: কোচ আনচেলত্তি রক্ষণ ও মাঝমাঠের চেয়ে আক্রমণভাগকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করেছেন। স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ৯ জনই পিওর ফরোয়ার্ড।
অনুশীলনের পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত করবে একাদশ’
নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেছেন, 'সে (নেইমার) যদি খেলার যোগ্য হয়, তবেই খেলবে। আমাদের সামনে অনুশীলনের সেশন রয়েছে এবং ট্রেনিং গ্রাউন্ডের পারফরম্যান্সই মূলত সিদ্ধান্ত নেবে কে মাঠে নামবে। শুরুর একাদশ কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমার মাথায় একটি পরিকল্পনা অবশ্যই আছে, তবে আমাদের অনুশীলনের ধারাই মাঠে বজায় রাখতে হবে; যদি আমরা প্রস্তুত থাকতে চাই।"
আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলে কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই আলাদা সুবিধা বা প্রিভিলেজ থাকবে না। নেইমারের মতো মহাতারকাকেও দলের বাকিদের মতোই সমান লড়াই করে একাদশে আসতে হবে। তিনি যোগ করেন:"আমি আবার বলছি, বাকি খেলোয়াড়দের মতো নেইমারের সামনেও সমান সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি, একটি দল হিসেবে আমাদের সবার কিছু সাধারণ দায়িত্ব আছে। আর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একটি লক্ষ্যেই নিজের সেরা গুণটি ঢেলে দিতে হবে—আর তা হলো, ব্রাজিল দলকে বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করা।"
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জয়ের মিশন শুরু করবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। তার আগে ৩১ মে পানামা এবং ৬ জুন মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা।
