ভূমিসেবায় দুর্নীতি বন্ধ করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০২:৩৪ এএম

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। পরে সেখানে একটি ডে কেয়ার সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভূমি মালিকানার জটিলতা এবং এর আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিক্রমায় একই পরিবারের জমি বিভিন্ন শরিকদের মধ্যে বারবার বণ্টন এবং বিক্রির কারণে মালিকানা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ১০০ বছর আগে যে জমির মালিক একজন ছিলেন, আজ সেখানে বহু মানুষের অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে জমির রেকর্ড ও হিসাব-নিকাশ নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ভূমি কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা ও নামজারির মতো শব্দগুলোর সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ জড়িত থাকায় তাদের অধিকার সুরক্ষায় একটি আধুনিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।

দেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে মামলার চাপ কমাতে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে প্রায় ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন, যার একটি বড় অংশই জমিজমা-সংক্রান্ত। এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট কমাতে প্রচলিত আদালতের বাইরে গ্রাম আদালত এবং অল্টারনেটিভ ডিস্পিউট রেজুলেশন (এডিআর) তথা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিতে হবে। এ সময় বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেনÑ সমঝোতা ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে তা সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি শত্রুতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’র প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের প্রযুক্তিগত উদ্যোগের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঘরে বসেই অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ও অন্যান্য সেবা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে আছেন, তাদের সহায়তার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় দেশের ৬১টি জেলায় এরই মধ্যে ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এই সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের হাতের মুঠোয় দ্রুততম সময়ে সেবা পৌঁছে দিতে ‘ভূমি’ নামে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক হবে, মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য তত বেশি কমবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত