যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটিকে গাজায় নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। এদিকে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।’ এর আগে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি সংগঠন হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ করার বিষয়ে একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আজ বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও অন্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তিনি জানান, নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া ‘সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে’ সম্পন্ন হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে গাজার বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’
ট্রাম্প এ সময় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানান। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীরা শিগগিরই কায়রোতে একটি বৈঠকে বসবেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্ক অংশ নেবে। বৈঠক কখন হবে তা জানানো হয়নি। তবে বলা হয়েছে, এতে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
