স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ প্রশাসন নির্বিকার

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

নাটোরে আবাসিক এলাকার ভেতরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ‘মদিনা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি কারখানায় সিসা গলানোর কাজ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানাটিতে দিনের বেলায় হাঁড়িপাতিল তৈরি করা হলেও রাত সাড়ে ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুরনো ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা গলানোর কাজ করা হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রতিকার চেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, ইতোমধ্যে একাধিক অভিযোগকারীর সঙ্গে রফাদফা করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, কারখানাটি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা কারখানাটি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তা ছাড়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কীভাবে লোকালয়ে এমন একটি কারখানা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে তা নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন। 

স্থানীয় মোকরমপুর, দত্তপাড়া ও ফতেঙ্গাপাড়ার শাহান শাহ, আব্দুস সালাম, বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ আলী, মাহবুব হাসান, হানিফ মোল্লা ও গোলাপসহ এলাকাবাসী প্রায় এক বছর আগে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকারের আশায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের মোকরামপুর আবাসিক এলাকার ভেতরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে ২৩ জন কর্মচারী রাত-দিন কাজ করেন। দিনের বেলায় কারখানায় হাঁড়িপাতিল তৈরি করা হলেও রাত সাড়ে ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুরনো ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা গলানোর কাজ করা হয়। পুরনো ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও নতুন ব্যাটারি উৎপাদনের কাজ করা হয়। ব্যাটারি পোড়ানো অ্যাসিডের দুর্গন্ধে মানুষ ভালোভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। বৃদ্ধ, নারী ও শিশুসহ সব বয়সী মানুষের শ্বাস কষ্টসহ নানা ধরনের অসুস্থতা বাড়ছে।

এলাকার মানুষ বারবার বিষয়টি মদিনা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিককে জানালেও তিনি কাউকে পাত্তা দেন না। কেউ এ বিষয়ে কথা বললে প্রতিবাদকারীকে ম্যানেজ করে ফেলেন। এলাকাবাসী জানান, ‘মদিনা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ কর্তৃপক্ষ মোকরমপুরের আবাসিক এলাকার পাশাপাশি পাশের গাজীপুর বিলে আরেকটি কারখানা করেছে। এলাকাবাসী গাজীপুরের বিলের কারখানায় পুরনো ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা গলানোর কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও কারখানার মালিকপক্ষ কর্ণপাত করছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারকারী কারখানাগুলো সিসা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। সিসা নিঃশ্বাস, খাবার, দূষিত পানি, মাটি বা ধূলিকণার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি গর্ভবতী মায়ের থেকে অনাগত শিশুর দেহে পৌঁছে যায়। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটির বেশি শিশুর রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসার উপস্থিতি রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত