টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৭৫৯টি ছোট-বড় খামার রয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এসব খামারে রেকর্ড ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় ৪০ হাজার গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এ বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও পশুর হাট ও হাইওয়ে চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগে আছেন জেলার হাজার হাজার খামারি। পাশাপাশি ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল টাকার কারবারিদের দৌরাত্ম্য তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
জানা গেছে, কোরবানির পশুর এ বিশাল জোগান ঘিরে টাঙ্গাইলের পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগু এখন সরগরম। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভূঞাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী গরুর হাট যা দেশীয় পশুর এক বিশাল সরবরাহ কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বেবিস্ট্যান্ড পশুর হাট এবং শহরতলির করটিয়া ও রসুলপুর, তোরাপগঞ্জ হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।
ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার টাঙ্গাইলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন খামারির নিজস্ব উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও দামসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনতে পারছেন যা হাটের বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। জেলার উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলার ঘাটতি মেটাতে ভূমিকা রাখবে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার প্রাণিসম্পদের এ বিপুল সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। গোখাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে ভারতীয় গরুর অবৈধ চোরাচালান। খামারিদের দাবি, চোরাই পথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এর ফলে জেলার ২৬ হাজারেরও বেশি খামারি তাদের পুঁজি হারিয়ে লোকসানে পড়বেন। পাশাপাশি জাল টাকার চক্রের সক্রিয়তা, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগে আছেন খামারিরা। তারা সড়কে পশুর হাট ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান।
টাঙ্গাইল সদরের কাতুলী ইউনিয়নের চৌ-বাড়িয়ায় রহমান এগ্রো ফার্মের মালিক দেওয়ান সুমন আহমেদ বলেন, ৩৪টি ষাঁড় গরু প্রস্তুত করেছি। গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় উৎপান খরচ বেড়ে গেছে। সীমন্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকলে ষাঁড়গুলো লোকসানে বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া পশুর হাট ও হাইওয়ে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগে আছি।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন এ সংকট থেকে খামারিদের রক্ষা, ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সম্ভাবনাময় এ খাতকে বাঁচাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা, ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি, জাল টাকা রোধে ব্যাংকের বুথ স্থাপন এবং হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ২০ হাজার ৫৬৯ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন জানান, জেলায় কোরবানির জন্য ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
