তৃণমূলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গ্রাম আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া গেলে গ্রামের সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তরা এমন মত দিয়েছেন। 

বক্তরা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত, স্বল্প খরচে এবং সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’-এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান।

সভায় প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতা বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাস চক্রবর্তী। এছাড়া গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ ও এর বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করেন ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরেন পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এখানে আইনজীবী নিয়োগের বিধান না থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পান। সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকে। বিশেষ করে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ সহজে বিচারসেবা পেতে পারেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আক্তার জাহান বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে গ্রামের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া গেলে তারা আর্থিক ও মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল বলেন, মানুষের অধিকার ও সরকারি সেবাসমূহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে তথ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। নামমাত্র খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তথ্য অফিস ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত