আদালতের রায়ের পরও অচল ৫ ইউনিয়ন পরিষদ, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০১:২০ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় আদালতের রায়ে বহাল থাকার পরও ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অফিস করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। 
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে চেয়ারম্যানদের দাবি। এতে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ।

উপজেলার দৌলখাঁড়, বটতলী, মৌকরা, হেসাখাল ও পেরিয়া ইউনিয়নে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

চেয়ারম্যানদের ভাষ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু রায় পাওয়ার পরও তারা ইউনিয়ন পরিষদে বসতে পারছেন না। 

এ বিষয়ে মৌকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন আলমগীর বলেন, আমরা আদালতের রায় নিয়ে জনগণের সেবা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় নেতাকর্মীরা পরিষদে তালা দিয়ে রেখেছে। আইনগতভাবে চেয়ারম্যান হয়েও দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। 

অন্যদিকে হেসাখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার মজুমদার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। আমরা দায়িত্বে ফিরলে অনেকের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, তাই আমাদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউনিয়ন সচিবরাও জড়িত। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নামে যে বরাদ্দ আসে সেটি ইউনিয়ন সচিব ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাগ বাটোয়ার করে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। 

এদিকে ২০০৯ ইউনিয়ন পরিষদ সংসদীয় আইনে বলা আছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার ব্যতীত অন্য কেউ করতে পারবে না। কিন্তু এইসব ইউনিয়ন পরিষদে ঘটছে তার ব্যতিক্রম। মেম্বার চেয়ারম্যানদের বরাদ্দ ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে যাচ্ছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জয়নাল ও কামালসহ কয়েকজন সদস্য বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের বদলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রভাব বেড়েছে। এতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পেরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদের জন্য কয়েক দিন ধরে ঘুরছি। চেয়ারম্যান আছে, কিন্তু অফিস বন্ধ। সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন হাসান ও মর্জিনা বেগমও। 

এ প্রসঙ্গে পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবির আহমেদ বলেন, মানুষ সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, হাইকোর্টের রায়ে চেয়ারম্যানরা বহাল আছেন। জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত