রামিসা হত্যা

ক্ষোভে ফুঁসছে শিল্পী সমাজ

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৮:০১ এএম

ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ বইছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শোবিজের প্রায় সব শিল্পীই জানাচ্ছেন প্রতিবাদ। অনেকেই আবার মূল হোতাকে দৃষ্টান্তমূলক এমনকি ফাঁসির দাবিও তুলেছেন। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতেও মনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নন্দিত গায়িকা কনকচাঁপা বলেন, ‘বাংলাদেশ পেডোফাইল দিয়ে ভরে গেছে সমাজ কি তা উপলব্ধি করে? এই যে ধর্ষণ হয়, ধর্ষণকারী ধরা পড়ে, নিজে স্বীকার করে তারপর তার শাস্তি দিতে দেরি হবে কেন? ধর্ষণকারীর পক্ষ নেওয়ার জন্য উকিল থাকে তিনি কেমন উকিল? জানি ভয়ংকর অপরাধীরও আইনগত অধিকার আছে একজন আইনজীবী পাওয়ার, নাহলে বিচার একপেশে হয় কিন্তু আমার কথা আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়। যে উকিল অপরাধীর পক্ষ ধরে তার কন্যা স্ত্রী ভাগনির সঙ্গে যদি এমন হয় তখনো তিনি শুধু একটা কাজের সেগমেন্ট হিসেবে অপরাধীর পক্ষ নেবেন? বিবেক এখানে কোনো কাজ করে না?’ প্রশ্ন তুলে এই কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘এ কোন বাংলাদেশ? কেমন বাংলাদেশের অধিবাসী আমরা?’

ছোট পর্দার তরুণ অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিচার ব্যবস্থার কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি লিখেছেন, ‘সম্ভবত এই মুহূর্তে মেয়েদের জন্য, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হলো বাংলাদেশ! শুধু গ্রেপ্তার করে সান্ত্বনা দেবেন আর বিচারের কোনো নাম নেই, এই সার্কাস আর কত দিন?’ আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিচার এমনভাবে করা উচিত যাতে এই ধরনের অপরাধ করার আগে অপরাধীর রুহ কাঁপে...।’

চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ বলেন, পারিবারিক শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন, স্বার্থহীন ভালোবাসার অভাব আমাদের সমাজ আর সমাজের মানুষগুলোকে কত অসহায়, কত নিরুপায় করে তুলছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইব? কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?’ নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা জানিয়েছেন, ‘আর কোনো কথা তো বেরোয় না আমার। কী বলব? কী বললে, কী করলে নিরাপদে থাকবে আমাদের শিশুরা? কেন মানুষ রূপে জন্ম নিয়েও সবাই হিংস্র প্রাণী হয়ে যাচ্ছে? সভ্য সমাজ বলতে কি আর কিছু আছে? কোথায় এর শেষ হবে? শেষ কি আছে এর কোনো? কোথায় যাব? কী করব? এত অসহায় লাগে... এত অসহায় লাগে।’

আরেক চিত্রনায়ক কাজী মারুফ বলেন, দেশে আইন থাকলেও অনেক সময় তার সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার শিশুদের এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। শিশু শুধুই শিশু। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। যারা শিশুদের ক্ষতি করে, তারা মানবতার পরিচয় দিতে পারে না।’ তিনি মনে করেন, অতীতে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে হয়তো নতুন করে এমন ঘটনা কমে আসত। তার ভাষায়, কঠোর শাস্তির ভয় থাকলে অপরাধীরা এমন কাজ করার সাহস পেত না। শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ধর্ষকের বিচার দাবি করছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকও। তিন দিনের মধ্যে যেকোনো ধর্ষণের বিচার চান তিনি। সেইসঙ্গে চান ধর্ষণের বিচারের আইনের পরিবর্তন। নইলে মানুষ আইন হাতে তুলে নেবে বলে মনে করছেন তিনি। নিজের ফেসবুকে চমক লিখেছেন, ধর্ষণের বিচারের আইনগুলো পরিবর্তন না করলে, মানুষ তো আইন নিজের হাতে তুলে নেবে। ধর্ষকের ফাঁসি হবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জনসম্মুখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত