ভোলার দৌলতখান উপজেলার জেলে বাবলু। মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বিষধর সাপের ছোবলে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে এক পর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় তার। রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
মৃত বাবলু (৩০) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের মৃত আহমদ আলীর ছেলে ও দুই সন্তানের জনক।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে উপজেলার বিএনপি বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ শিকার শেষে তীরে ফেরার সময় বিষধর একটি সাপ বাবলুকে কামড় দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকের বরাতে স্বজনরা জানায়, সাপের বিষের প্রভাবে বাবলুর একটি পা ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাকে সুস্থ করতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যয়বহুল ওষুধের প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসায় প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া এই জেলে পরিবারের পক্ষে এত বড় ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে কিছুদিন চিকিৎসা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাধ্য হয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে হয়তো বাবলুর চিকিৎসা আরও দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হতো। তারা অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।