একসঙ্গে তিন রকম হিমি

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের যে কয়েকজন মডেল-অভিনেত্রী ছোট পর্দায় তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছেন, তার মধ্যে অন্যতম জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। সাবলীল অভিনয় এবং জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক মহলে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে পা রাখা হিমি এখন সময়ের চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন নির্মাতা ও দর্শক মহলে। বলা চলে, হিমি এখন পুরোদস্তুর পেশাদার শিল্পী। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলা তথা পশ্চিমবঙ্গেও তার দর্শক তৈরি হয়েছে। সময় যত যাচ্ছে, ততই নিজেকে ভেঙেচুরে সুঅভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও এরই মধ্যে ভালো ভালো গল্পে অনেক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তবে গত কয়েক ঈদে ডজন-ডজন নাটকে ভিন্ন ভিন্ন লুকে হাজির হয়ে মুগ্ধ করে আসছেন দর্শককে। এবার ঈদেও নানান রকম চরিত্রে দেখা মিলবে তার। বিশেষ করে প্রথমবার একই নাটকে তিন রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি; যা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।  হিমির কাছ থেকে জানা গেল, ‘রূপার সংসার’ নামের একটি বিশেষ নাটকে তিনি নাম ভূমিকার পাশাপাশি তাকে তিনটি বয়সের চরিত্রে দেখা যাবে। শুরুতে ২৫ বছর, পরে ৪৫ এবং সবশেষে ৬৫ বছরের বৃদ্ধার চরিত্রে দর্শকের সামনে আসবেন। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন তানভীর তন্ময়।

হিমি বলেন,‘ রূপার সংসার’ নাটকে রূপা চরিত্রটি ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। রূপা এমনই একটা মেয়ে যে মেয়েটা পরিবারের হাসির জন্য নিজের কান্না লুকিয়ে রাখত। রূপা চরিত্রটির জন্য আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য তানভীর তন্ময় ভাইয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমি অতি সাধারণ একজন অভিনয়শিল্পী। এখনো প্রতিনিয়ত অভিনয় শিখছি। রূপার সংসার করতে গিয়ে অভিনয়ে আরও অনেক কিছুই শেখা হলো। জানি না তিনটা বয়সের চরিত্রে আমি কতটুকু ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি। তবে আমি শতভাগ চেষ্টা করেছি। দর্শকের রায়ের অপেক্ষায়।’

পরিচালক তানভীর তন্ময় বলেন, ‘ছোটবেলায় রূপা তার মাকে হারায়। যে কারণে মায়ের স্নেহ দিয়েই রূপা তার বাবা মায়ের সংসারটা আগলে রাখে এবং ছোট দুই ভাই-বোনকে মানুষ করে। রূপা তার জীবনের সব শখ-প্রেম ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে পুরো পরিবারের জন্যই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে। একসময় সবাই যার যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু যাদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের জীবনের দিকে তাকায়নি রূপা সেই রূপাই একসময় সবার কাছে আগাছা হয়ে যায়। আসলে পৃথিবীতে কিছু মানুষ আসে যারা নিজেকে পরের জন্যই নিবেদিত করতে আসে এবং একসময় তাদের কাজ শেষে তারা পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। রূপা সেই নিবেদিত একজন মানুষ। আমি বহুদিন যাবৎ হিমিকে চিনি, জানি। আমার কাছে মনে হয়েছে এই রূপা চরিত্রটি হিমিই যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে, তাই তাকে নিয়ে নাটকটি করা। আমি ভীষণ সন্তুষ্ট তার অভিনয়ে। আশা করি সবারই ভালো লাগবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত