নাড়ির টানে...

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। গত শনিবার থেকে ঈদযাত্রা শুরু হলেও চাকরিজীবীরা যাচ্ছেন গতকাল রবিবার থেকে। এদিন ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কার্যদিবস। অনেকে আধাবেলা অফিস করেই বাস কাউন্টারে ছুটেছেন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে কোনো ভিড় ছিল না। তবে গতকাল সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছেন। অনেক জায়গায় বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর দোলাইরপাড়, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, আরামবাগসহ প্রত্যেকটা কাউন্টার থেকে যাত্রী নিয়ে একের পর এক আন্তঃজেলা বাস চলে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে। এ ছাড়া রাজধানীর মহাখালী ও গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। যদিও ঝামেলা এড়াতে আগেই পরিবার পাঠিয়েছেন অনেক চাকরিজীবী।

এদিকে গাবতলীর বাস কাউন্টারগুলো সকালেও যাত্রী ডাকাডাকিতে ব্যস্ত থাকলেও বিকেলের চিত্র ছিল অনেকটা ভিন্ন। অনেক যাত্রীকে টিকিট খোঁজ করতেও দেখা যায়। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গাবতলী বাস টার্মিনালে এমন চিত্রই দেখা যায়। সড়কে ভোগান্তিমুখে পড়ার ভয়ে অনেকে হাফ অফিস করেই গাবতলী হাজির হয়েছেন। কিন্তু টিকিট ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল (উত্তরবঙ্গ) ও পূর্বাঞ্চলেও যাত্রায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর জৌলুস হারিয়েছে গাবতলী বাস টার্মিনাল। তবে ঈদের মতো উৎসব ঘিরে এখনো ভিড় জমে বাড়িফেরা মানুষের। এখন বিশেষ করে রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়গামী যাত্রীদের ভিড় হয়। এসব এলাকার জন্য শ্যামলী পরিবহন, নাবিল, হানিফ, সিল্ক লাইন ও শাহ ফতেহ আলী নামকরা পরিবহন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হচ্ছে আজ। অনেকেই গতকাল আধাবেলা অফিস করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তারা দুপুরের পর টার্মিনালে আসা শুরু করেছেন। সন্ধ্যা হতে হতে চাপ আরও বাড়বে। পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী কমলেও উত্তরবঙ্গের অনেক গাড়ি গাবতলী থেকে ছাড়ে। এতে আশানুরূপ যাত্রীর আশায় করছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গাগামী বাস ডিলাক্সের কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ রনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকালে নিয়মিত কোচগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর আগের মতোই বেকার সময় কেটেছে। দুপুরের পরের গাড়িতে প্রায় সব সিট বুক হয়ে আছে। এখন আর খালি গাড়ি যাবে না। ইতিমধ্যে গাবতলীতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চাপ কয়েকগুণ হবে। এমন চাপ থাকবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত। কারণ ওইদিন গরু কেনাবেচা শেষে করে অনেকেই বাড়ি ফিরবেন।

এ সময় গাবতলী বাস কাউন্টারে ঝিনাইদহগামী যাত্রী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সকালে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অফিসে গিয়েছি। আধা বেলা অফিস করে সরাসরি গাবতলী চলে আসছি। অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করিনি। কারণ যাত্রীর চাপ পড়ার আগেই বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা। কয়েকটা কাউন্টারে ঘুরেছি, পেছনে সিট বলে উঠিনি। এখন এসডি ডিলাক্সে সামনের দিকে একটি সিট পেয়েছি। ওই বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।

সেখানে আরেক যাত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, শনিবার রাত থেকে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাড়িতে আপনজনরা অপেক্ষা করে আছে। বাসা থেকে আমি গাবতলী বাস টার্মিনালে চলে এসেছি। আমার স্বামী অফিস থেকে একটু আগেই বের হয়েছে। তিনি এসে পৌঁছালেই রওনা হব।

গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলেন, প্রতি ঈদের মতো এবারও বেশি ভাড়া নিচ্ছে কিছু পরিবহন। রাহুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, নাটোরের ভাড়া নেয় ৬১০ টাকা। তবে ঈদ উপলক্ষে ৭০০ নিচ্ছে। ঢাকা থেকে রাজবাড়ী হয়ে কুষ্টিয়ায় চলাচল করা সুবর্ণ পরিবহনও বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। নাহিদ হাসান নামে আরেক যাত্রী বলেন, রাজবাড়ী ভাড়া ৪০০ টাকা। তবে এখন নিচ্ছে ৫২০ টাকা। ঈদ এলেই কিছু পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে গতকাল সকালে যাত্রবাড়ীতে বাসের টিকিট কেটে অপেক্ষা করতে দেখা যায় আবুল বাসার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে। তিনি যাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে। এখান থেকে কেউ যাচ্ছেন মাগুরা, যশোর কিংবা বরিশালসহ বিভিন্ন গন্তব্যে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও টাঙ্গাইলের যাত্রী বেশি দেখা গেছে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নন-ব্র্যান্ড ও লোকাল পরিবহনগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বগুড়াগামী যাত্রী জসিম বলেন, ঈদের আগে অনেকবার একতা বাসে আমি যাতায়াত করেছি। সাধারণ সময়ে ৫৫০ টাকায় টিকিট রাখা হতো। কিন্তু এখন ৫৮০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইমাদ পরিবহনের কাউন্টার মেনেজার সোহেল জানান, এটা বিআরটিএ নির্ধারিত নতুন ভাড়া।

বাড়তি বাড়ার বিষয়ে সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হোসেন বলেন, এটাকে বেশি ভাড়া বলা ঠিক হবে না। কারণ ঈদের সময় ঢাকা থেকে প্রতিটা গাড়ি ফুল যাত্রী নিয়ে যায়। কিন্তু খালি ফিরে আসে। এতে লোকসান গুনতে হয় পরিবহন মালিকদের। একটি গাড়ি যাত্রী নিয়ে বা যাত্রী ছাড়া যেভাবে রাস্তায় উঠুক না কেন, খরচ একই হয়। এজন্য ঈদের সময় পরিবহন মালিকরা শেষ গন্তব্যের ভাড়া নেন। তবে এর থেকেও কেউ যদি বেশি ভাড়া আদায় করেন, সেটা অন্যায়।

দোলাইরপাড় এলাকার ঈদযাত্রা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর মুজাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থা নিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত