প্রধানমন্ত্রী বললেন

আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে এগিয়ে যাচ্ছি

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয় বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক।’ গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা বার্তা স্পষ্টভাবে দিতে পারব। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি, নেতৃত্ব কেবল নীতিতেই নয় বরং বাস্তব কর্মকা-েও প্রতিফলিত হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে। শিল্পায়ন বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের স্বীকার করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।’

‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন এসব আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণেই টেকসই জ¦ালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয় বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সব সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা।

সকালে সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক শেষে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে টেকসই ও স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হতে সরকার নবায়নযোগ্যজ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি ভবনেও সোলার প্যানেল বসানো হবে।’

ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ : সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের বিদায়ী হাইকমিশার প্রণয় ভার্মা। গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। সাক্ষাতে উভয়ে দুদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। বিদায়ী হাইকমিশনার দুদেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ ও যৌথ উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভারতের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। ঢাকা ত্যাগের আগে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশ দুটির সক্ষমতা, আকাক্সক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

সিআরপি কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎ : এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র-সিআরপি কর্তৃপক্ষ। সাক্ষাতে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে তারা আলোচনা এবং তাদের চলমান কার্যক্রম, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর, ট্রাস্টির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত