আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা পালিত হবে। ইসলামী বিশ্লেষকদের অভিমত এই ঈদের সময় সামর্থ্যবানদের জন্য হজ, কোরবানির প্রাণী সংগ্রহ ও কোরবানির মাধ্যমে পার্থিব বা আর্থিক ত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ; একই সঙ্গে ঈদের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবন করে অন্যায় করার ইচ্ছা ত্যাগ করার মানসিকতা গড়ে তোলাও দরকার। আত্মশুদ্ধির জন্য আত্মত্যাগের চর্চা সঠিকভাবে করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তার পরিবার ও স্বজনরা আনন্দ পান। পাশাপাশি একই সমাজে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্য নাগরিকরাও তা থেকে সুফল পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অন্তরে লুকিয়ে থাকা লোভ ও হিংসা ত্যাগ করা এবং অন্যায় করার চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কোরবানির পার্থিব চাহিদার দিক থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গরু-ছাগলসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাণীর প্রাপ্যতার দিকটি সামনে আসে। পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এ বছর দেশীয় উৎস থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী সারা দেশে হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। অন্যদিকে, এবার এমন প্রাণীর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ। ঢাকার ২১টি হাটসহ দেশে গত সোমবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। দাম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। এর কারণ কী?
সীমিত আয়ের মানুষদের বাজারের দামের সঙ্গে নিজের পছন্দের সমন্বয় করা বেশ কঠিন হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দরদামে মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার। যারা হাটের ইজারা পেয়েছেন, স্থানভেদে অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের লোক। কিছু ক্ষেত্রে বিরোধী দলপন্থিরাও ইজারা পেয়েছেন। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা অধিকাংশ এসব ইজারা পেতেন। এমন চর্চার মধ্যেও আমরা আশা করি, হাট ও প্রাণী সরবরাহের দিকটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকবে। বিক্রেতারা নিরাপদ থাকবেন। মানুষকে ন্যায্য দামে স্বচ্ছন্দে নিজের পছন্দমতো প্রাণী সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সড়কে ও ফুটপাতে প্রাণীবাহী ট্রাক এবং প্রাণী বেঁধে না রাখার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাগিত দিয়ে থাকে। নাগরিকদের নির্ঝঞ্জাট চলাচলের জন্যও এ বিষয়টিতে নজর দেওয়া দরকার। প্রতি ঈদের আগে লাখ লাখ মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চে নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন স্বজনের কাছে। যানজট ও দুর্ঘটনা আজকাল সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ ও চালকদের সতর্ক থাকা সময়ের দাবি। যাত্রী এবং পথচারীদের নিজেদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোরবানির পর বর্জ্য দ্রুত পরিবেশসম্মত উপায়ে অপসারণে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের তৈরি কোরবানির বর্জ্য সঠিক উপায়ে সামাল দেওয়া এবং নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রাণীর চামড়ার সঠিক মূল্য না পাওয়া এবারও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। চামড়া বিক্রির টাকা গরিব ও এতিমের প্রাপ্য। এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার। অন্যদিকে, সংগ্রহের পর চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা উচিত। আমরা মনে করি, সবকিছু মিলিয়ে অন্যের অসুবিধা ও নাগরিক অধিকারের দিকটি বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যেন ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেজন্য কিছুটা ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা সবার থাকা দরকার। সবার ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক। আমরা সবাই সহমর্মী হই। নিজের কারণে অন্যের অসুবিধা হতে না দেওয়ার বিষয়ে আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক। ঈদ মুবারক।
