১৬ বছরের নির্বাসন শেষে বিশ্বমঞ্চে লড়াকু প্যারাগুয়ে

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

বিশ্বকাপের আঙিনায় প্যারাগুয়ে মানেই ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ, শারীরিক ফুটবল আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক লড়াকু মানসিকতার প্রদর্শনী। লাতিন আমেরিকার এই ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে এক বুক স্বপ্ন আর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের পর বিশ্বমঞ্চের আলো থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ‘লা আলবিরোহা’রা। অবশেষে দীর্ঘ নির্বাসন ঘুচিয়ে লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে ষষ্ঠ দল হিসেবে সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে তারা।

আলফারোর জাদুতে অভেদ্য রক্ষণ ও পরাশক্তি বধের গল্প

২০২৪ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ের কোচের দায়িত্ব নেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড গুস্তাভো আলফারা যিনি গত ২০২২ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরকে মূল পর্বে তুলে নিজের ট্যাকটিক্যাল সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছিলেন। তার অধীনেই প্যারাগুয়ে ফুটবল দল যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তাদের রক্ষণভাগ ছিল এককথায় অভেদ্য। এই লড়াকু ডিফেন্সের ওপর ভর করেই তারা ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে ১-০ এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আলফারোর আধুনিক কাউন্টার-অ্যাটাকিং দর্শনে এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে বড় কোনো রূপকথা লেখার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।

মূল ভরসা : আলমিরন, সানাব্রিয়া ও রোমেরো

সার্জিও রোকের পর প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি আটলান্টা ইউনাইটেডের তারকা উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন। ২০১০ সালে প্যারাগুয়ে যখন শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল, আলমিরনের বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। নিজের ঘরের টিভিতে বসে দেখা সেই সোনালি দলের স্মৃতি মনে করে আলমিরন বলেন, ‘দেশের এই বিশাল মঞ্চে খেলাটা সবসময়ই এক পরম গর্বের... আপনি সবসময় এটারই স্বপ্ন দেখবেন।’

মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সেতু বন্ধন হিসেবে আসল ভরসা জোগাবেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার অ্যানহেল রোমেরো। আর গোল করার মূল দায়িত্ব থাকবে ক্রেমোনেসের ফরোয়ার্ড অ্যান্তোনিও সানাব্রিয়ার ওপর, যিনি বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোল করে দলের নতুন ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রক্ষণভাগে দলের দেয়াল হয়ে থাকবেন তরুণ তুর্কি ডিয়েগো লিওন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত