ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হয়ে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা যে আঘাত একজন ক্রীড়াবিদের ক্যারিয়ারকেই থামিয়ে দিতে পারে, সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে হয়েছে দেশের অন্যতম সফল ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি তিনি। নিষিদ্ধ থাকার পুরো সময়জুড়েই নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার আশায়।
সম্প্রতি তার অনুশীলনে একাগ্রতা, শৃঙ্খলা ও ফিরে আসার প্রবল ইচ্ছা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তাদেরও মুগ্ধ করেছে। সেই কারণেই আগামী এশিয়ান গেমসের দীর্ঘ তালিকায় রাখা হয়েছে মাবিয়ার নাম। যদিও এখনো নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি, তবুও আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর মাবিয়া বিওএ’র কাছে একটি ক্ষমাসুলভ চিঠি জমা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন এবং সেটির উপাদান সম্পর্কে তার পূর্ণ ধারণা ছিল না। বিষয়টিকে তিনি নিজের অজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। সেই চিঠির ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিওএ’র একটি সূত্র জানায়, মাবিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও মানসিক দৃঢ়তা বিবেচনায় তাকে আবারও সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। বিশেষ করে দেশের নারী ভারোত্তোলনে তার অবদান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা গুরুত্ব এনে দিয়েছে। টানা দুটি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণ জেতা মাবিয়াকে নিয়ে আসন্ন পাকিস্তান এসএ গেমসেও বাজি ধরছেন ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ। তার কথা, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আগমী সাউথ এশিয়ান গেমসেও স্বর্ণপদকের জন্য ফাইট দিতে পারবে মাবিয়া। সম্প্রতি তার পারফরম্যান্সই আমাকে এই বাজিতে উৎসাহিত করছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি আশা করি খুব শিগগিরই মাবিয়ার নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং আবার স্বমূর্তিতে নিজের আঙিনায় ফিরবে মাবিয়া।’
একসময় দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতে আলোচনায় উঠে আসা মাবিয়া দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ডোপ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার ক্যারিয়ারে নেমে আসে বড় ধাক্কা। তবুও থেমে না গিয়ে নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এখন সব অপেক্ষা আইওসি’র সিদ্ধান্তের দিকে। যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে এশিয়ান গেমস দিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও দেখা যেতে পারে মাবিয়াকে। আর সেটি হলে দেশের ভারোত্তোলন অঙ্গনের জন্য হবে বড় এক স্বস্তির খবর।
