স্পেন দলে রিয়ালের কেউ নেই

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে এই স্কোয়াডে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলারকে রাখেননি কোচ দে লা ফুয়েন্তে। বিপরীতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার আটজন খেলোয়াড় নিয়েছেন তিনি। স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে ১৯৫০ সালের পর এই প্রথম রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই বিশ্বকাপে যাচ্ছে লা রোহারা। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ক্লাবের কোনো প্রতিনিধি না থাকাটা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলটির জন্য একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের তারকা দানি কারভাহাল এবং তরুণ ডিন হাইজেনের মতো নামগুলো চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি। এর ফলে ২০১০ সালের পর স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে মূল মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে বার্সেলোনা। স্কোয়াডে থাকা বার্সেলোনার আট ফুটবলার হলেন গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া, রক্ষণভাগের পাউ কুবারসি ও এরিক গার্সিয়া, মধ্যমাঠের গাভি ও পেদ্রি এবং আক্রমণভাগের দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল ও ফেরান তোরেস।

তবে দলে কোনো রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় না থাকার বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন কোচ ডি লা ফুয়েন্তে। সংবাদ সম্মেলনে ক্লাব পক্ষপাতিত্বের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই দলের ম্যানেজার এবং খেলোয়াড়রা কোন ক্লাব থেকে আসছে তা আমার দেখার বিষয় নয়। তারা সবাই এখন জাতীয় দলের ফুটবলার। একজন সমর্থকের মতো কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ব নেই। আমি শুধু চাই এই খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ববোধ করুক।’

বার্সেলোনা ব্লকের পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের ওপরও বড় ভরসা রাখছেন স্প্যানিশ কোচ। লিগটি থেকে মোট সাতজন ফুটবলার ডাক পেয়েছেন, যার মধ্যে গানার্সদেরই তিনজন। আর্সেনাল থেকে ডাক পেয়েছেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া এবং দুই মিডফিল্ডার মার্টিন জুবিমেন্দি ও মিকেল মেরিনো। এ ছাড়া মধ্যমাঠের প্রধান নিয়ন্ত্রণ হিসেবে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি। কোচ তার দলের মনোভাব প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের মূল শব্দ হলো উত্তেজনা ও আবেগ। পুরো স্পেনের আবালবৃদ্ধবনিতা এখন জাতীয় দলের পেছনে একতাবদ্ধ। এই দলের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক সম্মানের।’ তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে স্প্যানিশ ভক্তদের মনে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। তবে কোচ সমর্থকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, কোনো বড় অঘটন না ঘটলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই সবাইকে ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে। ক্লাবগুলোর মেডিকেল টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং টুর্নামেন্টে তারা সেরা ফর্মে ফিরবে বলেই বিশ্বাস কোচের।

দুই বছর আগে জার্মানিতে ইউরো জেতার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে এবার উত্তর আমেরিকার বিমান ধরবে স্পেন। তবে সেই সঙ্গে থাকবে ১ কোটি ফুটবলপ্রেমীর আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত