ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১৭ দিন। ঠিক এই অন্তিম মুহূর্তে গতকাল সকালে ফুটবল বিশ্বে বড় এক ধাক্কা হয়ে এলো লিওনেল মেসির মাঠ ছাড়ার খবর। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির রোমাঞ্চকর ৬-৪ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে বাঁ-পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা থাকলেও, ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন মায়ামি কোচ গিলেরমো হোয়োস।
মায়ামি ফ্রিডম পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২৮তম মিনিটে (৭৩ মিনিট) হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করায় নিজেই তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। মাতেও সিলভেত্তি তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর মেসি ধীরগতিতে সরাসরি ড্রেসিংরুমের টানেলে চলে যান।
মেসির এই মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্তটি মূলত সতর্কতামূলক ছিল। হ্যামস্ট্রিংয়ে অতিরিক্ত চাপ বা বড় কোনো পেশির ইনজুরি এড়াতেই তিনি তড়িঘড়ি করে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ গুইলারমো হোয়োস মেসির চোটের চেয়ে ক্লান্তিকেই বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, এখনো আমাদের কাছে চূড়ান্ত কোনো মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি। তবে আমরা দ্রুতই তা পেয়ে যাব। সে মূলত ভীষণ ক্লান্ত ছিল। মাঠের কন্ডিশনও কিছুটা ভারী ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকম সন্দেহ তৈরি হলে আমরা কখনোই ঝুঁকি নিই না এবং তাকেও মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে সতর্কতার অংশ হিসেবেই।’
সতীর্থ ডি পল জানিয়েছেন, ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডি পল মেসির সঙ্গে মাঠের ভেতরের কথোপকথন তুলে ধরেন। তিনি বলেন : ‘মাঠেই লিও আমাকে বলেছে যে এটি খুব বেশি গুরুতর কিছু নয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তার এখন কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন। বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যাটি তাকে কিছুটা ভোগাচ্ছিল। তাই যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের মেডিকেল টিম সবকিছু খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে এবং মূল্যায়ন করবে।’
বিশ্বকাপে মেসির অংশ নেওয়া নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে সে বিশ্বকাপ মিস করবে না। সে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, আমাদের অধিনায়ক এবং এই জাতীয় দল যা কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে তার একটি বিশাল অংশ। তার কাছে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটা কেবল ফুটবলের চেয়েও বেশি কিছু; এটি তার গর্ব, দায়িত্ব এবং আবেগ।’
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ক্লাব ফুটবলে এটিই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ। এরপরই বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের জন্য এমএলএস-এর প্রথমার্ধের খেলা বিরতিতে যাচ্ছে। আগামী ২ জুন ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করবে। তার আগেই আলবিসেলেস্তে অধিনায়ককে নিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল টিম নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে।
মাঠ ছাড়ার আগে ইন্টার মায়ামিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে বরাবরের মতোই অনন্য ভূমিকা রাখেন মেসি। শুরুতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া মায়ামির হয়ে জার্মান বার্টারেমেকে দিয়ে গোল করিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। মেসি যখন ৪-৪ সমতায় মাঠ ছাড়েন, তার পরপরই লুইস সুয়ারেজ এবং নিজের জন্মদিনে রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত গোলে ৬-৪ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ মেসির পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টের দিকে।