পবিত্র ঈদুল আজহার পর কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় চারটি মামলায় মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
রবিবার (৩১ মে) বাঁশখালীর প্রধান সড়কের কালীপুর, গুনাগরীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহন স্ট্যান্ডে এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক এবং বাঁশখালী ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট রুবেল হোসেন মিজি।
জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় সড়কপথে যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পায়। এ সুযোগে কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে—এমন অভিযোগ পেয়ে মাঠে নামে প্রশাসন। অভিযানের সময় বিভিন্ন গণপরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ভাড়ার হার যাচাই করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে চারটি মামলা দায়ের করা হয় এবং মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি এবং সড়ক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেন, যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলেন, ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় একটি পুরোনো সমস্যা। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে পরিবহন খাতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন।
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী