ভারত সফরে নেপালের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ এএম

২০২৫ সালে দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনের মধ্যদিয়ে সরকার উৎখাত ও নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথম ভারত সফরে গেছেন নেপালের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান রবি লমিছানে। এ সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে যাননি নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক র‌্যাপশিল্পী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তুলনামূলক নীরব রয়েছেন। নেপালে নিযুক্ত কয়েকজন বিদেশি দূতের সঙ্গে সাক্ষাৎও এড়িয়ে চলছেন তিনি। যদিও বালেন্দ্র শাহের সহযোগীরা জানান, অর্থনীতিসহ দেশের নানা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে তিনি ক্ষমতার প্রথম এক বছরে বিদেশ সফরে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারত বিষয়ে পার্লামেন্টে বালেন্দ্র শাহের এক বক্তব্যের পর দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার মধ্যেই রবি লমিছানে পাঁচ দিনের এ সফর শুরু করেছেন। গত রবিবার পার্লামেন্টে  বালেন্দ্র শাহ বলেন, ভারত ও নেপাল উভয়ই পরস্পরের ভূখ-ে ‘অনুপ্রবেশ’ করেছে। তিনি বন্ধুপ্রতিম মনোভাব নিয়ে এ বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। তার এ মন্তব্য ঘিরে কাঠমা-ুর পার্লামেন্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ভারতে এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফরে গেছেন রবি লামিছানে। তিনি নেপালের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সভাপতি। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে গত মার্চের সংসদ নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ বিজয় পায়।

সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক লামিছানে এখনও ক্ষমতা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিন কোটি জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত হিমালয়ঘেরা রাষ্ট্র নেপাল। দেশটিকে প্রতিবেশী দুই পরাশক্তি ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত। দেশটির মোট আমদানির ৬৩ শতাংশ আসে ভারত থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, যার অংশ ১৩ শতাংশ।

গতকাল দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে এক নিবন্ধে লামিছানে লিখেছেন ‘স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ নেপাল ভারতের উত্তর সীমান্তে একটি স্বাভাবিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত নেপাল প্রতিবেশী অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।’ তিনি আরও লিখেন ‘তাই নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভারতের জন্যও একটি কৌশলগত প্রয়োজন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত