ঈশ্বরগঞ্জ

ঘর তল্লাশির সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মারামারির মামলার এক আসামিকে ধরতে গিয়ে ঘর তল্লাশির সময় নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসামিকে না পেয়ে এসআই আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি কৌটা থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী কমলা খাতুন জানান, চলতি মাসের ১ জুন বিকেল ৩টার দিকে মারামারি মামলার আসামি তার স্বামী বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালান। বাচ্চু মিয়াকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে ও তার ছোট ছেলেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কমলা খাতুনের দাবি, প্রথমে এসআই আব্দুর রাজ্জাক একাই তার ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘরে ডেকে নেন এবং ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও খোঁজাখুঁজি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে দুটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রাখা ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি পরিশোধের জন্য আলাদা করে রাখা ছিল। বাকি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে রাখা ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার পর টাকা খুঁজতে গিয়ে দেখি ওই টাকা নেই। ঘরে প্রথমে এসআই রাজ্জাক এবং পরে আরও তিনজন পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ঘরে ঢোকেনি। আমার টাকা কোথায় গেল, তার উত্তর চাই। একই সঙ্গে আমাকে ও আমার সন্তানকে গালিগালাজ করার বিচার চাই।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘থানা পর্যায়ে বিচার না পেলে পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’

একই গ্রামের লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর বলেন, ‘একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত নয়। বিষয়টি আমাদের মর্মাহত করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার দিন মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আসামিকে না পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এ নিয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত