আন্তর্জাতিক সাগরমাতা (এভারেস্ট) দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাস এক ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। আজ শুক্রবার ( ৫ জুন) রাজধানীর বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল পর্বতারোহীদের সংগঠন বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাকের সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, প্রতিযোগিতার বিচারক খ ম হারুন, বিএমটিসির প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক ও ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইনাম আল হক বলেন, ২০০৯ সালে প্রথম একজন বাংলাদেশি ৮ হাজার মিটারের একটি চূড়া জয় করেন। ফলে বলা যায়, ২০০৯ সাল থেকে এভারেস্ট দিবস পালন করার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে বাংলাদেশের। একটি চূড়া আছে যেটি এগারোবার চেষ্টা করা হয়েছিল বিভিন্ন ইউরোপিয়ান অভিযাত্রীদের দ্বারা জয় করার, সেটা জানার পর আমরা নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করি এবং সেই চূড়াটি জয় করি। সেই থেকে ওই চূড়ার নামকরণ করা হয় নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্দশিপ। এমন অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে। বাংলাদেশের পর্বতারোহীরা এভারেস্টর চুড়ায় উঠেছেন এর মধ্য দিয়ে এভারেস্ট এখন আমাদেরও। তিনি ভিডিও প্রতিযোগিতায় অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ দেন এবং পরবর্তী সময়েও এই আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে।
প্রতিযোগিতার বিচারক খ ম হারুন বলেন, প্রতিটি ভিডিওই একেকজন অদম্য পর্বতারোহীর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছে। তাদের ওপর চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়া সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের পর্বতারোহীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বের সর্বোচ্চ চুড়ায় দেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরছে। অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের বিস্তৃতি আরও বৃদ্ধি পেলে দেশের মানুষের গড় শারীরিক সক্ষমতার বাড়বে।
বাংলাদেশে দায়িত্বরত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল একসূত্রে গাথা। এভারেস্ট যদি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশ দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে বঙ্গোপসাগরের এই ব-দ্বীপও পরিত্রাণ পাবে না। তাই পরিবেশ বিপর্যয় রোধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নেপাল সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের পর্বতারোহীরা এভারেস্ট আরোহণে নিয়মিত কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশ দূষণ রোধে বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বক্তব্যে বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহীসহ অন্য পর্বতারোহীদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে তিনটি ভিডিও চিত্রকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ও মুনতাসীর মামুনের ‘সামিট ইজ এ উইমেন’ এবং ডা. বাবর আলীর ‘এভারেস্ট অ্যান্ড লোৎসে’ রানারসআপ পুরস্কার জয় করে। ইকরামুল হাসান শাকিলের ‘সি টু সামিট’ ভিডিও চিত্রটি বেস্ট এক্সপেডিশান ভিডিও হিসেবে মনোনীত হয়। বিজয়ীরা প্রধান অতিথির হাত থেকে সম্মাননা ও স্মারক গ্রহণ করেন। পরে গত বছরে ছয় হাজারের বেশি উচ্চতার পর্বত আরোহণকারীদের সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হয়।
