শক্ত হওয়ার রসদ হিসেবে নিইজনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রোতাদের উপহার দিচ্ছেন গান। ঈদ উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও ‘লোকে বলে’ শিরোনামের জমকালো মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নতুন এ গান ও অভিনয়ের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
লোকে বলে গানটির মিউজিক ভিডিওতে আপনার পারফরম্যান্স এবং গ্ল্যামার বরাবরের মতোই দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়েছে। এই গানটি বেছে নেওয়ার পেছনে মূল ভাবনা কী ছিল?
আসলে ফুয়াদ ভাইয়ের (ফুয়াদ আল মুক্তাদির) সঙ্গে আমার সখ্য অনেক পুরনো, যখন আমি রেডিও ফুর্তিতে কাজ করতাম। ছোটবেলা থেকেই উনার গানের ভক্ত। নিঃসন্দেহে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একজন মিউজিশিয়ান। উনার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাটা অনেক দিনের ছিল। হঠাৎ করেই একদিন উনি আমাকে ফোন করে একটি গানের কনসেপ্ট শেয়ার করেন। এরপর আমরা একসঙ্গে বসি এবং একটি গান তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। কী ধরনের গান করা যায়, তা নিয়ে ভাবার সময় মাথায় এলো, আমাদের চারপাশে মানুষ কত কথাই তো বলে! সেই ভাবনা থেকেই মূলত ‘লোকে বলে’ গানটির সূত্রপাত। ফুয়াদ ভাই ট্র্যাকটি কম্পোজ করার পর আমরা লিরিকস নিয়ে বসলাম। একজন আত্মবিশ্বাসী ও ‘স্যাসী’ মেয়ের গল্প ফুটিয়ে তুলতে তুলতে এক এক করে চমৎকার কিছু শব্দ মিলে গানটি তৈরি হয়ে গেল।
ঢাকাই সিনেমা কিংবা ওপার বাংলা, সবখানেই আপনার নাচের প্রশংসা করা হয়। এই গানের জমকালো কোরিওগ্রাফির পেছনে আপনার নিজের ইনপুট কতটা ছিল এবং শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই।
পর্দায় বা পর্দার বাইরে, সবখানেই আমি কাজের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে। বাবা যাদবের সঙ্গে কাজের সুন্দর রসায়ন আমার। জমকালো কোরিওগ্রাফির পেছনে পুরো টিমের যেমন পরিশ্রম ছিল, তেমনি আমার নিজেরও কিছু ইনপুট ও সিগনেচার স্টাইল ধরে রাখার চেষ্টা ছিল। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়, তবে দর্শকদের জন্য দারুণ কিছু উপহার দেওয়ার আনন্দ সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
সাধারণত আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকাদের নিয়মিত গান গাওয়ার চল খুব একটা দেখা যায় না। অভিনয়ের পাশাপাশি মিউজিক ক্যারিয়ারকে এভাবে ধরে রাখা এবং নিয়মিত বিরতিতে গান উপহার দেওয়ার পেছনের তাড়না কীভাবে পান?
আমার কাছে উপস্থাপনা, গান, অভিনয় সবকিছুই খুব কাছের মনে হয়। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, কাজগুলো পারব। হিসাব-নিকাশ করে চলি না যে, কতটা নিয়মিত করছি বা করছি না। কাজের মান যদি ভালো না হতো, তবে বড় বড় প্রোডাকশন হাউজগুলো আমার পেছনে এভাবে অর্থ বিনিয়োগ করার কথা চিন্তা করত না। যেহেতু তারা প্রতিনিয়ত ইনভেস্ট করছে, তার মানে আমি সঠিক পথেই আছি। যতদিন এই ধারা বজায় থাকবে এবং দর্শক চাইবেন, ততদিন আমি গান ও অভিনয় সমান্তরালে করে যাব। যেদিন মনে হবে আর পারছি না, সেদিন অন্য কিছু ভাবা যাবে।
গানের শিরোনাম ‘লোকে বলে’। একজন তারকা হিসেবে আপনাকে প্রতিনিয়ত মানুষের ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা মন্তব্য শুনতে হয়। ব্যক্তি নুসরাত ফারিয়া ‘লোকে বলে’ বা মানুষের সমালোচনাকে কীভাবে সামলান এবং কাজের ওপর এর কতটা প্রভাব পড়ে?
নেতিবাচক মন্তব্যগুলোকে যদি আপনি নেতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেন, তবে দিন শেষে ডিপ্রেশন বা বিষণœতা গ্রাস করবে। আমি সমালোচনাকে সেভাবে দেখি না। বরং নেতিবাচক কথাগুলোকে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার রসদ হিসেবে নিই এবং নিজের কাজের বৈচিত্র্য বাড়াতে সেগুলোকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করি। আমি সবসময় ইতিবাচক মানুষদের পরিবেষ্টিত হয়ে
থাকতে পছন্দ করি। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীরা, যারা নিয়মিত আমার পাশে থাকেন, তারা আমাকে প্রচুর পজিটিভ এনার্জি দেন। ফলে বাইরের নেতিবাচক কথা আমাকে ছুঁতে পারে না, আর আমি নিজেও সেটাকে গায়ে মাখি না।
প্রত্যেক মানুষের জীবনেই চড়াই-উতরাই থাকে। তারকাদের ক্ষেত্রে এই ভালো বা মন্দ সময়গুলো অনেক বেশি প্রকাশ্য। জীবনের কোনো কঠিন বা মন্দ সময়ে নিজেকে সামলানোর এবং মানসিকভাবে শক্ত রাখার জন্য আপনার নিজস্ব কৌশল কী?
চড়াই-উতরাই তো জীবনেরই অংশ আর সেলিব্রিটি লাইফে এটা একটু বেশিই প্রকাশ্য থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য মানসিক পরিপক্বতা ও ইতিবাচক মানসিকতা খুব জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলবেই, তাই কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত রাখাই আমার মূল মন্ত্র।
কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে সবসময় ভীষণ ফিট এবং স্টাইলিশ দেখা যায়। আপনার এই অনস্ক্রিন গ্ল্যামার এবং অফস্ক্রিন লাইফস্টাইলের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার গোপন রহস্য জানতে চাই।
সত্যি বলতে, অনস্ক্রিন আর অফস্ক্রিনের পার্সোনালিটিতে আমার খুব একটা পার্থক্য নেই। ফিটনেস আমার অফস্ক্রিন লাইফস্টাইলেরই একটা বড় অংশ। আমি ফিট থাকতে, সুন্দর পোশাক পরতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পছন্দ করি। কাজ আর ওয়ার্কআউট ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে আমি নিজেকে খুব একটা ব্যস্ত রাখি না। নিজের ওপর, কাজের ওপর ভীষণ ফোকাসড। আর এর পেছনের মূল রহস্যটা হচ্ছে ‘ডিসিপ্লিন’। আপনি যখন নিজের জীবনে শতভাগ নিয়মানুবর্তিতা বা ডিসিপ্লিন নিয়ে আসতে পারবেন, তখন সবকিছু বজায় রাখা আপনার জন্য খুবই সহজ হয়ে যাবে।
সমসাময়িক অনেক তারকাই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করছেন এবং বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। ওটিটির জন্য আপনার বর্তমান কোনো ভাবনা বা নতুন কাজের পরিকল্পনা আছে কি?
ওটিটি নিয়ে আগে থেকে ওভাবে কখনো পরিকল্পনা করে কাজ করা হয়নি। তবে হ্যাঁ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজের পরিধি এবং দর্শকদের আগ্রহ এখন অনেক বেশি। সেই দিকটা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে হয়তো ওটিটিতে আমাকে দেখা যেতে পারে। দর্শকদের জন্য ভালো কিছু করার পরিকল্পনা অবশ্যই আছে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আপনার অর্জনের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। তবে প্রতিটি মানুষেরই কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন থাকে। পেশাগত জীবনে এমন কোনো চরিত্র বা কাজ কি আছে, যা এখনো করা হয়ে ওঠেনি কিন্তু করার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে?
দেখতে দেখতে আমার ক্যারিয়ারের ১০-১১ বছর কেটে গেল; ২০১৫ থেকে আজ ২০২৬ সাল। এতদিনের পথচলার পর আমার এখন তীব্র ইচ্ছা, আই লাভ কমার্শিয়াল ফিল্ম, আমি আরও বেশি করে মসলাদার বাণিজ্যিক সিনেমা করতে চাই। আমার মনে হয়, দর্শকরা যে ধরনের সিনেমা দেখে বিনোদিত হয়, হলভর্তি মানুষ যা দেখতে পছন্দ করে, সেই কমার্শিয়াল সিনেমার প্রতিই আমার ভালোলাগা ও টান সবসময় সবচেয়ে বেশি থাকবে।
