বিশ্বকাপ এলে পোশাক ফেলে পতাকা বানান পান্না মিয়া

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন বিশ্বজুড়ে। এ উন্মাদনায় জেগেছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা। ৪০ বছর ধরে দর্জির কাজ করছেন পান্না মিয়া। কিন্তু বিশ^কাপ ফুটবল এলেই তার হিসাব অন্যরকম হয়ে যায়। পোশাক তৈরির কাজ ফেলে হাত দেন পতাকা তৈরিতে। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। দোকানে রীতিমতো ৪৮টি দেশের পতাকার মেলা বসিয়েছেন তিনি। আর সেখানে বিভিন্ন দলের ভক্তরা আসছেন, কিনে নিচ্ছেন তাদের পছন্দের বিভিন্ন আকারের পতাকা।

পান্না মিয়া বগুড়ার বিসিক এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় তার এম পান্না টেইলার্স নামের দোকান রয়েছে। পোশাক বানিয়েই তার জীবিকা চলে। নিজে তিনি জার্মানির সমর্থক। বিশ^কাপে প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে লোকজনের উন্মাদনার বিষয়টি পান্না প্রথম উপলব্ধি করেন ২০১০ সালে। এরপর নিজেই কাপড় কিনে বিশ্বকাপ আসরে থাকা সব দলের পতাকা বানিয়ে দোকানের সামনে ঝুলিয়ে দেন। শুরু হয় বিশ্বকাপের পতাকা মেলা। কেউ পতাকা কিনলে তাকে একটি খেলার সময়সূচি বিনামূল্যে দেন তিনি।

গত ১৬ বছর ধরে ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই টেইলারিংয়ের অন্য সবকাজ বাদ দিয়ে তিনি পতাকা তৈরির কাজ শুরু করেন। বিগত বছরগুলোতে ৩২টি দেশের পতাকা তৈরি করলেও এবার ৪৮টি দেশের পতাকা তৈরি করেছেন পান্না।

পান্নার দোকানে পতাকা কিনতে আসা জার্মানির সমর্থক সিয়াম জানান, ৩০০ টাকা দিয়ে তিনি প্রিয় দলের পতাকা কিনেছেন।

পতাকা বিক্রির ফাঁকে কথা হয় পান্না মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সব দেশের পতাকা আছে। এবার ৪৮টি দেশের পতাকা বানিয়েছি। সবই বিক্রি হচ্ছে।

কোন দেশের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছেÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে পান্না মিয়া বলেন, ‘সবসময় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা বেশি বিক্রি হয়। এবার পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসের পতাকাও বিক্রি হচ্ছে। অনেকে ৪৮টি দেশের পতাকা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত