পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম সংকট বিরাজ করছে। ফলে অফিস সময় শেষে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপজেলায় খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জরুরি সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলায় মোট ৩২টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে ২৭টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি আবাসিক ভবনে থাকার কথা থাকলেও তাদের জন্য বর্তমানে কোনো পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপজেলা সদর থেকে দূরে বসবাস করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, আবাসিক ভবনের অভাবে কর্মকর্তাদের উপজেলা কমপ্লেক্সের বাহিরে থাকতে হয়। এতে সরকারি কাজের পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও তৈরি হয়।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা চেয়ারম্যান, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নতুন ভবন নির্মিত হলেও গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত চারটি ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সেগুলোর পরিবর্তে নতুন কোনো আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, অনেক কর্মকর্তা উপজেলা সদরের বাহিরে বসবাস করার কারণে সময়মতো অফিসে আসতে পারে না। বিশেষ করে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসে আসতে বিলম্ব হয় এবং শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার অফিস শেষ হওয়ার আগেই কেউ কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আবাসন সংকটের বিষয়টি তিনি যোগদানের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।