নষ্ট হলো কোরবানির ৩১ লাখ চামড়া

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

সিন্ডিকেটের চাপে ফড়িয়া বিক্রেতাদের দাম না পাওয়া, সংরক্ষণ অবকাঠামোর ঘাটতি, সরবরাহ চেইনে জড়িতদের দক্ষতার অভাব, ঈদের সময়ে উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রতিবছরই কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ৩১ লাখের বেশি চামড়া সংরক্ষণ না হওয়ায় নষ্ট হয়েছে বলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮ পশু কোরবানি হয়েছে। বিসিকের তথ্য বলছে, এর মধ্যে দেশে ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৭ পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। গত বছরও প্রায় ৩০ লাখ পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে।

জানা গেছে, দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দিয়েছেন, কোথাও কোথাও ফড়িয়া বিক্রেতারা দাম না পেয়ে নষ্ট করেছেন এবং কিছু চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় বরাবরই নষ্ট হয়। সংরক্ষণ করা চামড়ার মধ্যে ৭২ দশমিক ১ শতাংশ গরু ও মহিষের এবং বাকি ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ ছাগল ও ভেড়ার। 

বিসিক বলছে, সংরক্ষণ করা ৬২ লাখ ৫৩ হাজার চামড়ার মধ্যে সারা দেশে বিভিন্ন গুদামে ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ, মাদ্রাসাগুলোতে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ট্যানারিগুলোতে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর ৬০ লাখ ৩০ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এবারে প্রায় ৬২ লাখের বেশি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর কোরবানি বেশি হয়েছে এবং সংখ্যার দিক থেকে চামড়া নষ্টও বেশি হয়েছে।

বিসিকের গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হিসাব করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশ থেকে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে মোট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১০৬টি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৪টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এক লাখ এক হাজার ৯২টি। 

জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আজহায় সরকারের ঘোষণায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম বাড়লেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তবে পূর্বের ধারাবাহিকতায় এ বছরও কাঁচা চামড়ার কাক্সিক্ষত দাম না মেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে বিনামূল্যে মসজিদ-মাদ্রাসায় চামড়া দান করলেও সংরক্ষণ দক্ষতার অভাবে সেসব চামড়া নষ্ট হয়েছে বা মান খারাপ হয়েছে।

বরাবরের মতোই ট্যানারি মালিকরা বলছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অদক্ষতা, গুজবের কারণে কোরবানিদাতারা চামড়ার সঠিক দাম পাননি। দাম না থাকায় অনেকে চামড়া ফেলে দিয়েছেন বা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। তবে ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরি ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেকে চামড়ার দাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। কাঁচা চামড়ার দাম স্থানীয় বা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঠিক করেন। প্রতি বছর বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে। আমরা সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া কিনেছি।’

কোরবানির তুলনায় কম চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে চামড়ার সঠিক মূল্য ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অভাবে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে অনেকে নষ্ট চামড়া ফেলে দেন বা মাটিতে পুঁতে ফেলেন। যে জন্য লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সংগ্রহ কম হয়ে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত