বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আলোচিত এ মামলার দুজনকেই খালাস দেন। ব্যাভিচারের অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছিলেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন। বিচার শুরুর চার বছরের বেশি সময় পর তাদের খালাস দেন আদালত।
মামলায় বাদী তার আভিযোগ বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু বাদী রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা বাদীর নজরে আসে। এরপর একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই মামলাটি করেন।
ওই ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন, অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। আদালত ১০ জনের সাক্ষ্য নেয়। গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে নাসির ও তামিমা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন সাউদিয়া এয়ারলাইনসের সাবেক বিমানবালা তামিমা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এই রায়ের পর তাদের (নাসির ও তামিমা) বিয়ে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। মামলার বাদী রাকিবের আইনজীবী ইশরাত হাসান রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রায়ের কপি পেয়ে এবং বাদীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।