জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে  স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

অতীতের সব ষড়যন্ত্র ও আঘাত মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখতে ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ১০টি মিশনে নিয়োজিত আছেন এবং হাইতিতে একটি নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শান্তিরক্ষা মিশনে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়।

তিনি বিগত দিনের সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একটি সর্বগ্রাসী আঘাত এসেছিল, যার ফল সবার জানা। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে।

পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জলবায়ুপরিবর্তন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আধুনিকায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সবসময় শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার পক্ষে থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।

সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মাননা : অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা ও স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত থাকা সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হলেও, এবার ওই সময়ে দেশে ঈদের ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ জুন বাংলাদেশে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমানপ্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত