টিআইবির আশঙ্কা

মানবাধিকার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত হবে

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে, প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি কার্যকর হলে কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের বদলে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত হতে পারে। সংস্থাটির মতে, নতুন খসড়ায় এমন কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এমন পরিস্থিতিতে খসড়া আইনটি সংশোধনের জন্য ১৯ দফা সুপারিশ পেশ করে এটি চূড়ান্ত করার আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। গত ৮ জুন সরকারের কাছে এই সুপারিশমালা জমা দেয় টিআইবি। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে নিজেদের উদ্বেগের বিষয়টি জানায় দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি।

টিআইবি বলছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে নতুন খসড়া আইনে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, যা একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের জন-আকাক্সক্ষার পরিপন্থি। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘প্যারিস নীতিমালা’র মানদ-ের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা হবে এবং এটি সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনে থাকবে না। তবে নতুন খসড়া আইন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং এটি স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা হারাবে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি।

কমিশনের কার্যপরিধি ও ক্ষমতার বিষয়ে টিআইবি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সম্ভাব্য আটককেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত অনুসন্ধান ও পরিদর্শনের অবাধ ক্ষমতা কমিশনকে দিতে হবে। গুম, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত করার বিধান আইনে স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারের আগাম অনুমতির যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বাতিল করে আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কমিশনের অনুমতিকেই যথেষ্ট হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে টিআইবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত