জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমবে এবং আরও বেশি উদ্যোক্তা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসতে উৎসাহিত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আবিদা সুলতানা।
জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাজেটে নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত বার্ষিক আয় সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসএমই উদ্যোক্তা তহবিল হিসেবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের প্রশংসা করে আবিদা সুলতানা বলেন, এই তহবিলের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা সহজতর অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ লাভ করবেন, যা এসএমই খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত এবারের বাজেটকে সামগ্রিকভাবে একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে নারী উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র, কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং রপ্তানিমুখী নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও সুস্পষ্ট নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার সুযোগ রয়েছে।
স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ নির্ধারণ এবং স্থানীয় লেনদেনে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব নতুন প্রজন্মের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ডিজিটাল সেবায় নিয়োজিত নারীদের জন্য উৎসে কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ ডিজিটাল অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এখনও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে ও জামানতবিহীন অর্থায়নের বিষয়ে বাজেটে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে তা অধিকতর কার্যকর হতো। একইসঙ্গে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তাকে কর ও নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সহজীকরণ প্রয়োজন।
উইম্যান চেম্বারের পক্ষ থেকে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বতন্ত্র কর রেয়াত, জামানতবিহীন ও স্বল্পসুদে নারী উদ্যোক্তা তহবিল সম্প্রসারণ, সরকারি ক্রয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ন্যূনতম ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানান।