ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রাম  নগর পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   

নাঈমকে পুলিশের মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গতকাল রাতে থানায় ছুটে যান তার বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিমান থেকে নামার পর নাঈমের সঙ্গে আমার কথা হয়। পরে আবার সে জানায় তাকে পুলিশ ধরেছে, মারধর করছে। খবর পেয়ে থানায় এলে ডিউটি অফিসার আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ মধ্যরাতে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে হাজির হন তার আত্মীয়-স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরাও। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন তারা। 

এদিকে আজ শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এতে এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’  
এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এ তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’

তিনি আরও  বলেন, ‘অভিযান চালানোর নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

ক্রিকেটার নাঈম জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তার। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।

নাঈম হাসান অভিযোগ করে বলেন, গাড়ি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন, পরিচয়পত্রও দেখান। তবু তাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে তাকে পেটান।

নাঈম আরও অভিযোগ করেন, খুলশী থানায় নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। থানার ভেতরে আমাকে আবারও হেনস্তা করা হয়েছে। ওসির সামনেও আমাকে নাজেহাল করা হয়েছে। কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমি তখন নিজে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই। এরপরও তারা গুরুত্ব দেয়নি। আমার সঙ্গে থাকা দুজন তখন তাদের আমার পরিচয় দেয়। কিন্তু তারা উল্টো বলে, ‘তুই আসামি, তুই চুপ থাক।’ এরপর আমাকে লাথি মেরে গাড়িতে তোলে এবং থানায় নিয়ে যায়।’

নাঈমের দাবি, একপর্যায়ে তার পরিচিতজন ও বিভিন্ন মহল থেকে থানার ওসির কাছে ফোন যেতে শুরু করে। তখন পুলিশ সদস্যরা ভুল বুঝতে পারেন। নাঈম বলেন, ‘যখন ওসির মোবাইলে বিভিন্নজন ফোন দেওয়া শুরু করে, তখন তিনি বলেন যে ভুল হয়ে গেছে। পরে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত পারফর্ম করে আসছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত