মরক্কো–ব্রাজিল দ্বৈরথে বিভক্ত হৃদয়, ড্র চায় ব্রাজিলের ঐতিহাসিক এক গ্রাম

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

ব্রাজিল মানেই ফুটবলের উন্মাদনা। দেশটির জাতীয় দল মাঠে নামলে সমর্থকদের আবেগ যেন বাঁধ মানে না। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ব্রাজিলেরই একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ ব্রাজিলের জয় কামনা করলেও মরক্কোর হার দেখতে চান না। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত যেকোনো ম্যাচে তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে ড্র।

ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় আমাপা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্রাম মাজাগাও বেলহোর মানুষের সঙ্গে মরক্কোর সম্পর্ক প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো। ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতকে উত্তর আফ্রিকার মরক্কো অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার সময় সেখানকার মাজাগাও এলাকার শত শত পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে চলে আসে। পরে তারা আমাজন অঞ্চলে নতুন বসতি গড়ে তোলে, যার নামকরণ করা হয় মাজাগাও বেলহো।

সময় বদলেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মরক্কোর সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক বন্ধন আজও অটুট রয়েছে। ব্রাজিলিয়ান নাগরিক হিসেবে তারা নিজেদের দেশের প্রতি গর্ববোধ করেন, আবার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের কারণে মরক্কোর প্রতিও গভীর আবেগ অনুভব করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রাজিল ও মরক্কো মুখোমুখি হলে তারা এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে পড়েন। একদিকে ব্রাজিলের সাফল্য দেখতে চান, অন্যদিকে মরক্কোর পরাজয়ও মেনে নিতে পারেন না। তাই অনেকেই ম্যাচ ড্র হওয়ার প্রার্থনা করেন।

স্থানীয় অধ্যাপক অ্যান্তোনিও হোসে গণমাধ্যমকে জানান, গ্রামের মানুষ দুই দেশের প্রতিই সমান আবেগ ধারণ করেন। ফলে কোনো দলের গোল হলে যেমন একদল উল্লাস করে, অন্যদিকে আরেকদল কিছুটা মন খারাপ করে। এ কারণে ড্র-ই তাদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল।

ফুটবলের আবেগের বাইরে মাজাগাও বেলহোর এই গল্প ইতিহাস, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক শেকড়ের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আজও আলোচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত