হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি আগামী ১৯ জুন শুক্রবার থেকে ফের উন্মুক্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া একটি সমঝোতা চুক্তির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯ জুন দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই প্রণালিতে থাকা জলমাইন অপসারণের কাজ শুরু হবে। মাইন অপসারণ শেষ হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কোনো দেশকে আর কোনো প্রকার টোল প্রদান করতে হবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উদ্ভূত উত্তেজনার জেরে ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে এবং কৌশলগত স্থানে জলমাইন স্থাপন করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উভয় দেশের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়। চুক্তির শর্তানুসারে, ইরান যেমন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে এবং মাইন অপসারণ করবে, তেমনি উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধুমাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই ফিরিয়ে আনবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা কমিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ অনেকাংশে লাঘব করবে। ১৯ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত