বাবাকে খুন, লাশ জঙ্গলে ফেলে সন্তান

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন করে জঙ্গলে লাশ ফেলে দিয়েছিল ছেলে। ঘটনাটি দ্ইু বছর আগে চট্টগ্রামের। হালিশহর থানা এলাকা থেকে ২০২৪ সালের ৯ জুন রাতে নগরের আউটার রিং রোডের পাশের জঙ্গল থেকে ৬০ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহ দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম। নাম-পরিচয় না পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু  ঘটনার দুই বছর পর সহযোগীসহ ছেলেকে গ্রেপ্তার করে বাবা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হতভাগ্য ওই বাবার নাম মীর মজিবুর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল গ্রামে।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন বিকেলে নগরের কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকা থেকে নিহত মীর মজিবুরের ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেলালের স্বীকারোক্তি অনুসারে ১৪ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাধীন ঘেড়ামারা গ্রাম থেকে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আবদুল জলিল সম্পর্কে বেলালের ভায়রা। গ্রেপ্তারের পর গত রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবাকে খুনের বিবরণ দেয় বেলাল হোসেন। সে জানায়, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা এবং সম্পত্তি বিক্রি থেকে বিরত রাখতে বাবাকে নারীর ফাঁদ পেতে কৌশলে অচেতন করা হয়। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় জঙ্গলে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে বেলাল পলাতক ছিল। একপর্যায়ে বেলালের অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই গ্রেপ্তার করে। তার সহযোগী আবদুল জলিলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার বাদী নিহত মজিবুরের মেয়ে সালমা খানম বেগম বলেন, ‘জন্মদাতা বাবাকে যে সন্তান খুন করেছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে খুন না করে।’

পিবিআই জানায়, মীর মজিবুর রহমান খান পেশায় ছিলেন বাবুর্চি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিয়ে করেছেন তিনটি। প্রথম স্ত্রীর সন্তান বেলাল হোসেন (আসামি)। দ্বিতীয় স্ত্রীর আছে এক কন্যাসন্তান। তার নাম সালমা খানম। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মজিবুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীর নানার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বসবাস করতেন। ২০২২ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর মজিবুর রহমান কিছুটা বিমর্ষ অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীতে নিজের কিছু জমি বিক্রি করে দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে সালমা খানমকে দেন মজিবুর। এতে বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয় প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে পেশায় অটোরিকশাচালক মো. বেলাল হোসেন। বেলালের ধারণা, বাবা তাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছে। এরপর পুনরায় ৪০ শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন মজিবুর রহমান।

উক্ত সম্পত্তি মজিবুর যাতে বিক্রি করতে না পারেন, সে জন্য তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বড় ছেলে বেলাল। বেলাল সিএনজি অটোরিকশা চালায় চট্টগ্রাম শহরে। খুলশী থানা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকে। তার ছোট ভাই আনোয়ার বসবাস করেন গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীতে। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী এক নারীকে ঠিক করে বাবার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করার পরামর্শ দেয় বেলাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত