মোদির জোটে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের মধ্যেই বড় মোড় নিয়েছে দিল্লির রাজনীতি। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেদের পৃথক অবস্থান নিশ্চিত করতে তৃণমূলের কংগ্রেসের ২২ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য ত্রিপুরার অখ্যাত দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএর অংশ হিসেবে কাজ করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, গত রবিবার বিকেল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের ভাঙন ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। একদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন বিদ্রোহী এমপিরা। অন্যদিকে, লোকসভায় আলাদা ব্লকের স্বীকৃতি ঠেকাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি পৌঁছে দেন।

এমন পরিস্থিতিতে সংসদে আলাদা ব্লক গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি ও কারিগরি জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা সংসদে কোন দলের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এই জটিলতা এড়াতে শেষ মুহূর্তে নতুন কৌশল নেয় বিদ্রোহী শিবির।

তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হলেও, নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে তারা কোনো বড় জাতীয় দলে যোগ না দিয়ে ত্রিপুরার চার বছর আগে গঠিত আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকে এনসিপিআই নেতৃত্বের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। আপাতত লোকসভায় এই দলের এমপি হিসেবেই নিজেদের পরিচয় দেবেন বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা।

বর্তমানে তৃণমূলের ২৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২২ জন একসঙ্গে দল ছাড়ায় সংসদের নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। কারণ, তাদের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। জানা গেছে, রবিবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্য তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপিরা। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিজেপির প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের উপস্থিতি। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ অনেক দূর এগিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠক থেকেই এনসিপিআইকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব আসে।

বিদ্রোহীরা কেন হঠাৎ ত্রিপুরার একটি ছোট দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তার পেছনেও রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি হিসাব। জানা গেছে, বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের কোনো পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন স্পিকারকে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তৃণমূলের কয়েকজন এমপি নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইছেন। একইসঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি একক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করতে এবং দলের অনুমোদিত নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কোনো গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দিতেও তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেন। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার যদি আইনি জটিলতার কারণে নতুন ব্লককে স্বীকৃতি দিতে দেরি করেন বা অস্বীকার করেন, তাহলে সংসদ সদস্যদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ছাতার নিচে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিদ্রোহীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত