গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড

বিটিএসের আপত্তির পর এশিয়াপপ বিভাগ নিয়ে আলোচনা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ এএম

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এশীয় সংগীতকে যেভাবে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে, সেই বিতর্ক চলাকালে বিটিএস ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য তাদের কাজ জমা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর, রেকর্ডিং একাডেমি ‘সেরা এশীয় পপ পারফরম্যান্স’ বিভাগটি সংস্কার করার কথা বিবেচনা করছে।

১৪ আগস্ট বিলবোর্ডের প্রতিবেদন অনুসারে, রেকর্ডিং একাডেমির সিইও হার্ভি মেসন জুনিয়র স্বীকার করেছেন যে কিছু শিল্পী মনে করেন ‘সেরা এশিয়ান পপ পারফরম্যান্স’ বিভাগটি তাদের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলা সংগীত ধারাগুলোকে পুরোপুরিভাবে স্বীকৃতি দিতে পারেনি।

বিটিএসের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ নিয়ম পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে।

এক বিবৃতিতে হার্ভি মেসন জুনিয়র বলেছেন, রেকর্ডিং একাডেমি স্বীকার করে যে সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, শিল্পীদের একটি অংশ মনে করেন যে এই বিভাগটি তাদের সংগীতকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে না। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি এই উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রেকর্ডিং একাডেমি গত ছয় বছরে সঙ্গীত জগতের চাহিদা ও পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। হার্ভে মেসন জুনিয়র বলেন, রেকর্ডিং একাডেমি গ্র্যামির বিভাগগুলোর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে পারে। পুরস্কারটিতে এখন ১০০টিরও বেশি বিভাগ থাকায়, তিনি ইঙ্গিত দেন যে সংস্থাটি এমন একটি পদ্ধতির কথা ভাবছে যা এই ব্যবস্থাটিকে আরও পরিমার্জিত ও উন্নত হতে সাহায্য করবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিলবোর্ড জানিয়েছে যে রেকর্ডিং একাডেমি অফ আমেরিকা আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকেই এশিয়ান পপ বিভাগের পুনর্গঠন শুরু করতে পারে।

রেকর্ডিং একাডেমি অফ আমেরিকা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সংস্থাটির মতে, হার্ভে মেসন জুনিয়র এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নেতারা কে-পপ, জে-পপ, সি-পপ এবং ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্পী, রেকর্ড লেবেল এবং ম্যানেজারদের সঙ্গ সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে হাইবও  (বিএটিসের কোম্পানি) রয়েছে।

সম্প্রতি কে-পপ বয় ব্যান্ড বিটিএস ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস এ তাদের কোনও গান বা অ্যালবাম জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে বিটিএসের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা চান অঞ্চল বা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে তাদের গান যেন নিজস্ব গুণে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছায় ও ভালোবাসা পায়। তাই এ বছর তারা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন না।

সম্প্রতি রেকডিং একাডেমি আগামী বছরের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য পাঁচটি নতুন ক্যাটিগরির কথা ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজ়িক পারফরম্যান্স, বেস্ট ল্যাটিন গান, বেস্ট আর অ্যান্ড বি কোলাবোরেশন অর ডিউও বা গ্রুপ পারফরম্যান্স, বেস্ট ট্র্যাডিশনাল পপ ভোকাল পারফরম্যান্স এবং বেস্ট ট্র্যাডিশনাল ফোক অ্যালবাম। এই ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজ়িক পারফরম্যান্স’এর জন্যই বিটিএসকে তাদের গান বা অ্যালবামের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। আর এখানেই গ্র্যামি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বিটিএস সদস্যরা।

তাদের বক্তব্য,  গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মূলত আমেরিকার সঙ্গীতশিল্পী, সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এশিয়ার পপ মিউজিক বা সঙ্গীতশিল্পীদের সমাজচ্যুত বলেই ধরে নেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, ‘এশিয়ান পপ’ আদতে কী, তা গ্র্যামি কোনোভাবেই বিচার করতে পারে না বলে দাবি বিটিএস আর্মির। আর এই ধরনের ক্যাটিগরি তৈরি করে এশিয়ার সঙ্গীতকে বিশ্বের মূল সঙ্গীতের থেকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অতীতে অনেকবার প্রতিবাদ ও আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে গ্র্যামির মঞ্চ। কখনও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে, আবার কখনও সমকামিতার পক্ষে সওয়াল উঠেছে সেখানে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত