রৌমারী সীমান্তে ৩ দিন ধরে নারী-শিশুসহ দুই পরিবার

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:১২ এএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার শিকার ৯ নারী, পুরুষ ও শিশু টানা তিন দিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ। প্রচ- রোদ, গরম আর রাতের অন্ধকারে খোলা আকাশের নিচেই কাটছে তাদের দিন-রাত।

সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে পড়া এসব মানুষ ঘিরে মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিজিবির পক্ষ থেকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত রবিবার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। একই সময়ে ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামে। কয়েক দিন আগে কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে।

সীমান্তের বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, মানুষ হিসেবে তাদের কষ্ট দেখে বসে থাকা যায় না। আমরা খাবার আর পানি পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু দুটি ছোট শিশু নিয়ে এভাবে রোদ-বৃষ্টি আর রাতের আঁধারের মধ্যে থাকা খুবই কষ্টের। দ্রুত একটা সমাধান হওয়া দরকার। শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, শুনেছি তারা বাংলাদেশের নাগরিক। মানবিক কারণে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। শিশুসন্তান নিয়ে তারা খুব কষ্টে আছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে গত রবিবার দুপুরে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধীন দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠা-ু মিয়া বাংলাদেশের পক্ষে এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালুরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার বিএসএফের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি। উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শূন্যরেখায় আটকে পড়া ৯ জনের ভাগ্য এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের জন্য পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিএসএফ এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি, যার কারণে সমাধান হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত