সংস্কৃতি অঙ্গনে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সরব বিপ্লব আদিত্য। ১৯৯৮ সালে খেলাঘর আসরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে উদীচী, প্রাচ্যনাট, চারুনীড়ম হয়ে ২০১১ সাল থেকে যুক্ত আছেন আরণ্যক নাট্যদলে। অভিনয়ের পাশাপাশি চলছে আবৃত্তি চর্চা। ১৯ জুন তার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান। বিস্তারিত কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ
আপনার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘আমরা শিউরে বাংলাদেশ’ নিয়ে জানতে চাই।
এটি মূলত ‘তারুণ্যের স্বর’ সংগঠনের ব্যানারে আমার একটি একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান। আগামী ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নাটম-ল মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের নামকরণ ও কবিতা নির্বাচনের ভাবনাটা কেমন ছিল?
আয়োজনে আমরা মূলত দেশ ও মাটির কথা বলতে চেয়েছি। প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা যেমন থাকছে, তেমনি এই সময়ের নতুন ও তরুণ কবিদের লেখাকেও প্রাধান্য দিয়েছি। ১৯টি কবিতা পাঠ করব।
শুনলাম আবৃত্তির পাশাপাশি গানও থাকছে?
অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে আবৃত্তির পাশাপাশি গান রাখা হয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের চারটি গান পরিবেশন করা হবে। এছাড়া একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকছে, রিয়াজ পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি চমৎকার আবৃত্তি পরিবেশনা।
সংগঠন হিসেবে ‘তারুণ্যের স্বর’-এর এটি কততম আয়োজন?
এটি আমাদের তৃতীয় প্রযোজনা। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ মার্চ আমাদের প্রথম প্রযোজনা ‘তারুণ্য’ মঞ্চে আসে। পরে ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় প্রযোজনা ‘প্রেমোদ্রোহ’। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘আমরা শিউরে বাংলাদেশ’।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আপনার যাত্রা দীর্ঘদিনের, শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
আমার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালে ‘সত্যাশ্রয়ী খেলাঘর আসর’-এ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এরপর ২০০২ সালে ‘নাটুয়া নাট্যদল’-এ যোগ দিয়ে থিয়েটার জীবন শুরু করি। পরে উদীচীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গির ওপর প্রশিক্ষণ নিই।
আরণ্যক নাট্যদল এবং আবৃত্তি চর্চায় আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কেমন?
আমি প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিংয়ের ১৪তম ব্যাচ এবং চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিংয়ের ৭ম ব্যাচে সম্পন্ন করি। এরপর আরণ্যক নাট্যদলের কর্মশালা শেষে ২০১১ সালে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ পাই, যা এখনো চলছে। এর পাশাপাশি ‘স্বরচিত্র আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এবং নিয়মিত টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনে ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছি।