আর্জেন্টিনার মতো উরুগুয়েকে হারাতে পারল না সৌদি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এইচ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা মিলল এক রোমাঞ্চকর ও কৌশলগত ফুটবল লড়াইয়ের। তবে উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল দুই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের দুটি মারাত্মক ভুল। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি স্টেডিয়ামে ১-১ গোলের নাটকীয় সমতায় শেষ হয়েছে দুই দলের এই বিশ্বমঞ্চের লড়াই। লাতিন পরাশক্তি উরুগুয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ আর সৌদি আরবের ধৈর্যশীল রক্ষণভাগের এক চরম পরীক্ষা দেখেছে ফুটবল বিশ্ব।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখল ও কৌশলে উরুগুয়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও সবাইকে চমকে দিয়ে ৪১ মিনিটে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় সৌদি আরব। আর এই গোলের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে উরুগুয়ের ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার নাম। ১৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকা সৌদি ডিফেন্ডার আবদুলইলাহ আল-আমরির একটি শট সরাসরি গ্রিপে নিতে না পেরে সোজা ডেঞ্জার জোনে ঠেলে দেন। ওত পেতে থাকা আল-আমরি সেই সুবর্ণ সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করে বল জালে জড়ান। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সৌদি আরব।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পুরো ম্যাচ রূপ নেয় ‘উরুগুয়ে বনাম সৌদি গোলরক্ষক’ দ্বৈরথে। উরুগুয়ের একের পর এক বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে সৌদি গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। পুরো ম্যাচে মোট ৯টি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি, যার মধ্যে ৬টিই ছিল দ্বিতীয়ার্ধে। কিন্তু ম্যাচের বয়স যখন ৮০ মিনিট, তখন আল-ওয়াইসও চাপের মুখে খেই হারিয়ে ফেলেন। মাঠের ঘাসে ড্রপ খাওয়া একটি অস্বস্তিকর শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি বল তুলে দেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড মাক্সি আরাউহোর পায়ে। অত্যন্ত নিখুঁত সøাইডিং ফিনিশিংয়ে গোল করে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান আরাউহো।

ম্যাচ শেষে নিজের ভুল স্বীকার করে সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুই দলের পক্ষ থেকেই এমন ভুল হওয়া স্বাভাবিক। উরুগুয়েও মূলত দ্বিতীয়ার্ধেই নিজেদের চেনা ফর্মে ফিরেছে। প্রথম ম্যাচ হিসেবে আমরা মাঠের পরিবেশ ও সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এদিকে এই ম্যাচটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক কোচ উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ সৌদি আরবের গ্রিক কোচ জর্জিস দোনিসের মধ্যকার এক দাবা খেলা। গত এপ্রিলের শেষে হার্ভ রেনার্ডের স্থলাভিষিক্ত হওয়া দোনিস মাত্র তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়ে এই অভিজ্ঞ উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

তবে ম্যাচ শেষে নিজের দলের সীমাবদ্ধতা ও প্রাপ্তি নিয়ে সৌদি কোচ জর্জিস দোনিস বলেন, ‘উরুগুয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়াটা আমাদের জন্য ইতিবাচক এবং এটি আমাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করবে। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা দল গোছানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সময়ের অভাবে ম্যাচের মাঝে কৌশলগত পরিবর্তন দেখানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ৪-৪-২ বা ৪-৩-২-১ ফরম্যাটে খেলতে জানলেও, পরিস্থিতি অনুযায়ী পাঁচ ডিফেন্ডার বা তিন মিডফিল্ডারে যাওয়ার মতো পরিবর্তন যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারিনি।’ দ্বিতীয়ার্ধে দল রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া এবং ক্লান্তি ভর করার বিষয়টিও স্বীকার করেন এই গ্রিক কোচ।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করতে মরিয়া উরুগুয়ে যেন সৌদি আরবের ডি-বক্সের সামনে তাঁবু গেড়ে বসেছিল। গোলরক্ষক মুসলেরা ছাড়া উরুগুয়ের বাকি ১০ জন খেলোয়াড়ই অল-আউট আক্রমণে যোগ দিলে পুরো ম্যাচটি সৌদি রক্ষণভাগের বনাম উরুগুয়ের আক্রমণের লড়াইয়ে রূপ নেয়। ম্যাচে উরুগুয়ে সব মিলিয়ে গোলমুখে মোট ২৯টি শট নেয়। অতিরিক্ত ৭ মিনিটের শেষ সেকেন্ডেও উরুগুয়ে কর্নার পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সৌদি আরব। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর এবার উরুগুয়েকে হারিয়ে আরেকটি লাতিন আমেরিকান পরাশক্তিকে বধ করার স্বপ্ন দেখছিল সৌদি আরব, কিন্তু মায়ামির তীব্র গরমে শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দুই দলকেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত