নিগ্রহের তিক্ততায় ইরান

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

মাঠের বাইরের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর মাঠের ভেতরের রুদ্ধশ্বাস লড়াই সব মিলিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে এক অবিস্মরণীয় ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব। দুবার পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের নাটকীয় ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ইরান। তবে এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের আনন্দের চেয়েও ম্যাচ পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতা আর কোচ আমির ঘালানোইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যই এখন বড় আলোচনার বিষয়। কিউইদের বিপক্ষে ড্র করার পরপরই আয়োজকরা ইরান দলকে ‘অবিলম্বে’ যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইরানি বস।

ম্যাচটি শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের জয়জয়কার দিয়ে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও কিউই ফরোয়ার্ড এলিজাহ জাস্টের জোড়া গোল ইরানকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিল। তবে রামিন রেজাউইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বির লড়াকু গোলে ম্যাচে ফেরে ইরান। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইরানের ফুটবলীয় অর্জন ছাপিয়ে সামনে আসে লজিস্টিক বিপর্যয়। নিরাপত্তার অজুহাতে তড়িঘড়ি করে দলটির ফ্লাইটের সময় এগিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের মেক্সিকো সীমান্তের তিজুয়ানাতে অবস্থিত ক্যাম্পে ফিরে যেতে বলা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিজের ক্ষোভ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি ইরান কোচ আমির ঘালেনোই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সময়ের বেশিরভাগ অংশই আকাশপথে যাতায়াতে ব্যয় করছি, তারা আমাদের এমনকি রিকভারির সময়টুকুও দেয়নি। আজ খেলার পরেই আমাদের বলা হলো অবিলম্বে চলে যেতে হবে। অথচ খেলোয়াড়দের শরীরের কথা ভেবে রিকভারি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয় সম্ভবত আমাদের দলটিই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিগৃহীত দল।’

ম্যাচ শেষে লজিস্টিক প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন ইরানের অধিনায়ক মেহেদি তারেমিও। ফিফার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি জানিয়েছেন, লজিস্টিক থেকে শুরু করে সবকিছুই তাদের জন্য একটি ‘বিপর্যয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, মেক্সিকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই সংক্ষিপ্ত পথ পাড়ি দিতেই মার্কিন ইমিগ্রেশনের কারণে তাদের ৫ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। ম্যাচ শেষে আবারও একই ধকল নেওয়ায় খেলোয়াড়দের বড় চোটের ঝুঁকি দেখছেন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ মোহেবি। তিনি বলেন, ‘গতকাল সকালে আমরা রওনা দিয়ে বিকেলে পৌঁছেই সরাসরি অনুশীলনে নেমেছি। আর আজ ম্যাচ খেলেই আবার চলে যেতে হচ্ছে। সকালে এখানে রিকভারি সেশন হওয়ার কথা ছিল। এই সূচি একেবারেই অন্যায্য। এভাবে টানা ভ্রমণ করলে ফুটবলারদের হ্যামস্ট্রিং, লোয়ার ব্যাক এবং পেশিতে টান পড়বেই।’

ম্যাচ শেষে ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে ফুটবলার ও কোচের সঙ্গে কথা বলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে তারেমিরা সরাসরি তাদের ক্ষোভের কথা জানান। জবাবে ইনফান্তিনো দলটিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আপনারা পুরো বিশ্বের সামনে প্রমাণ করেছেন যে, আপনারা বিশ্বকাপে বুক চিতিয়ে লড়তে এসেছেন। আপনারা কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু আপনারা সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী। আজ পুরো স্টেডিয়াম যেভাবে আপনাদের সমর্থন দিয়েছে, তা গোটা বিশ্বকে একতাবদ্ধ করার বার্তা দেয়। হৃদয় দিয়ে খেলুন, বিশ্ব টিম মেল্লির (ইরান দল) প্রেমে পড়ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এমন বৈরী আচরণের বিপরীতে মেক্সিকো সরকার ও বিশেষ করে টিজুয়ানার মানুষের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরান কোচ। এমনকি লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে গ্যালারির বড় অংশজুড়ে মেক্সিকান সমর্থকরা ইরানের পক্ষে গলা ফাটিয়েছেন, যা দলটিকে ঘরের মাঠের আবহ দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ঘালেনোই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত