ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা পুনঃপরীক্ষার আগে দেশটির সরকার মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করে রেখেছে। গত মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ থাকবে। অভিযোগ উঠেছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ‘প্রতারণা’ করতে অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতজুড়ে অন্তত ২৩ লাখ চিকিৎসক হওয়ার শিক্ষার্থী ২১ জুন নতুন করে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মে মাসে পরীক্ষা বাতিলের পর এই পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষা বাতিল কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর নেতৃত্ব দেয় ভাইরাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। কারণ তার মন্ত্রণালয় নিটসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সরকার টেলিগ্রাম ব্লক করার সিদ্ধান্ত নেয় আইটি আইনের একটি কঠোর ধারা অনুযায়ী, যা ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে’ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানায়, ২১ জুন নির্ধারিত নিট পুনঃপরীক্ষা ঘিরে পরীক্ষার্থীদের প্রতারণা করতে সংগঠিত চক্র অ্যাপটি ব্যবহার করছিলÑ এ অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনটিএ আরও দাবি করেছে, মেসেজ এডিট করার ফিচার ব্যবহার করে পরীক্ষা-পরবর্তী সময়ে পুরনো পোস্ট সম্পাদনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরি করা হচ্ছিল। এতে পোস্টের মূল সময় অপরিবর্তিত থাকায় বিভ্রান্তি ছড়ানো সহজ হচ্ছিল। সংস্থাটি জানায়, পুনঃপরীক্ষার আগেই একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল তৈরি করে শিক্ষার্থীদের কাছে ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এসব চ্যানেল ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদে অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা প্রশ্নপত্র সরবরাহের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতারণা করছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, অ্যাপটি বন্ধ করার কারণে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে এটি ‘শেষ উপায়’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ আগের নির্দেশনায় এমন কনটেন্ট সরালেও কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। ডাউনলোডের দিক থেকে ভারত টেলিগ্রামের সবচেয়ে বড় বাজার, যদিও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনো হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয়। ফলে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। নিট বিতর্কের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ভারতীয় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশ্নপত্র নিরাপদে পরিবহনের জন্য বিমানবাহিনীর বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেটর ও অনুবাদকদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ‘লকডাউন’ করে রাখা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো ফাঁসের ঘটনা না ঘটে। তাদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচসহ সব ধরনের যোগাযোগ যন্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।