কানসাস সিটির সবুজ মাঠে তখন উৎসবের আমেজ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আর এই জয়ের নায়ক তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে যখন ইতিহাস গড়লেন, ঠিক তখনই দেখা গেল এক আবেগঘন দৃশ্য। গোল উদযাপনের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। শুরুতে সবাই এটিকে রেকর্ড গড়ার আনন্দাশ্রু মনে করলেও, ম্যাচ শেষে জানা গেল এর পেছনের এক বেদনাবিধুর গল্প।
এই কান্নার পেছনে ছিল না কোনো ফুটবলীয় কারণ। ছিল বাবা হোর্হে মেসির অসুস্থতা নিয়ে এক ছেলের গভীর উদ্বেগ। ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি কেবল লিওনেলের বাবাই নন, তিনি মেসির এজেন্ট এবং বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক বিষয়গুলোও দেখভাল করেন। বাবার সাথে মেসির এই আত্মিক টানই তাকে মাঠের ভেতরে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক স্বীকার করেন, “সত্যি বলতে, (আমার এই কান্নার) কারণটি খেলাধুলার সাথে একেবারেই সম্পর্কিত নয়। বিগত কয়েকটি দিন আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন এবং জটিল ছিল।”
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার অন্যতম জনপ্রিয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘রেডিও মিত্রে’ এর এক সূত্র নিশ্চিত করে জানায় যে, হোর্হে মেসি গত বছরের শেষ দিক থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। বাবার এই অসুস্থতার মানসিক চাপ মাথায় নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন মেসি।
তবে মাঠের খেলায় এই মানসিক চাপের বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়তে দেননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে একাই তটস্থ করে রেখে ম্যাচজুড়ে দেখিয়েছেন চেনা জাদু। দুর্দান্ত তিনটি গোল করে টুর্নামেন্টের শুরুতেই গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি।