যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০১:০০ এএম

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বিমান ও গোলন্দাজ বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর ভঙ্গুর এ সমঝোতা ইসরায়েল নস্যাৎ করতে চাইছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিক এএফপিকে জানিয়েছেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ‘শত্রুতা বন্ধে’ সম্মত হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল লেবাননের সংঘাতের আঁচ যেন মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। তবে এই সমঝোতার কয়েক ঘণ্টা পরই দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা ও অবিরাম কামানের গোলা বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ভাষায় ‘হুমকি’ মোকাবিলায় ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অপারেশনাল ফ্রিডম’ বা অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতা বজায় থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলী ভাষ্য ব্যবহার করে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলার সুযোগ খোলা রাখছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক জানান, এটি যুদ্ধবিরতির মতো মনে হচ্ছে না। প্রতিবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেই আমরা দেখি সামরিক তৎপরতা নতুন করে বেড়ে যায়।

ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের চরম উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহতের পর বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মন্তব্য করেছিলেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত।’ জবাবে আরাঘচি বলেন, ‘তেল আবিবের এই নরঘাতক চক্র পুরো মানবতার জন্য হুমকি। তাদের একমাত্র আগ্রহ ‘স্থায়ী যুদ্ধ’।’

বেন-গভির আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের সংযত থাকার প্রয়োজন নেই, বরং ‘উন্মত্ত’ হয়ে লেবাননকে গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত।

লেবাননে তীব্র সংঘাতের জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বিষয়ক আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনায় বসতে রাজি নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তার সফর স্থগিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন, বৃস্পতিবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লেবানন যুদ্ধ বন্ধ করা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ওয়াশিংটন সরাসরি দায়ী এবং ইরান তার মিত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত